রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

শাপলা বাদ দিয়ে ইসি গেজেট জারি করলে, ইসি পুনর্গঠনের দাবিতে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনই রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছালেও প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও দলের মধ্যে টানাপোড়েন থামছে না। দলটির চাওয়া ‘শাপলা’ প্রতীক বিধিমালায় নথিভুক্ত নেই—ইসির এই অবস্থান থেকে অনড় থাকতে দেখা যাচ্ছে।

এ নিয়ে কয়েক মাস ধরে চিঠিপত্র, বৈঠক ও আলাপ-চর্চা হলেও কোনো সমাধান মেলেনি; দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান ছাড়ছে না।

ইসি কি বলছে
ইসি সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের নির্বাচনী বিধিমালায় ‘শাপলা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত নয়; তাই সেটি সরাসরি কোনো নতুন প্রার্থী দলকে বরাদ্দ করার সুযোগ নেই। পরিবর্তে কমিশন পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্য কোনো প্রতীক বেছে নিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ করবে—এমনটাই গতকাল (আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে) ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিধিমালা অনুযায়ী শাপলা দেয়া সম্ভব না।

এনসিপির দাবি ও হুঁশিয়ারি
তবে এনসিপি আপাতত তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না—শাপলা ছাড়া দলের প্রতীক মেনে নেবে না তারা। যদি কোনো আইনি বা সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই শাপলা বাদ দিয়ে ইসি গেজেট জারি করে, তাহলে তারা সেটি গ্রহনযোগ্য ভাববেন না এবং বদলে ইসি পুনর্গঠনের দাবিতে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে তারা নির্বাচনে অংশ না নেওয়া পর্যন্ত বিবেচনা করছেন।

নেতৃবৃন্দের কথায়—অবশেষে শাপলা না হলে গণআন্দোলন, আইনি লড়াই এবং রাজপথের কর্মসূচি তারা চালাতে প্রস্তুত। যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, ‘কোনো যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা ছাড়া শাপলা বাদ দিলে আমরা ইসি পুনর্গঠনের জন্য আন্দোলন করব এবং রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে প্রতিকার নেব।’ দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন ইসি শূন্যস্থানে শাপলা ছাড়া গেজেট প্রকাশ করবে না; তবু না দিলে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি নেওয়া হবে।

পলেমিক আর আইনগত যুক্তি
জুনে নিবন্ধনের দরখাস্তের সময় এনসিপি শাপলার পাশাপাশি কলম ও মোবাইল ফোনও চেয়েছিল; পরে দলের নামমাত্র সিদ্ধান্ত বদলে তারা কেবল শাপলাতেই দাঁড়ায়। ইসি নিয়মাবলিতে শাপলা না থাকায় এনসিপির আবেদন বারবার নাকচ হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে করা এক আইনি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—জাতীয় প্রতীকের চারটি পৃথক উপাদানের মধ্যে শাপলা রয়েছে এবং অনুশীলনে দেশের অন্য দলগুলোকে জাতীয় প্রতীক বা জাতীয় ফল/ফুলের নাম দেয়া হয়েছে; তাই শাপলা দেয়া হলে কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। এনসিপি মনে করে, নির্বাচনী বিধিমালা, ২০০৮ সংশোধন করে ‘শাপলা/সাদা শাপলা/লাল শাপলা’—এই তিনটি প্রতীককে অন্তর্ভুক্ত করা যাক এবং তাতে যেকোনো একটি তাদের বরাদ্দ করা হোক।

গত ৭ অক্টোবর এনসিপি আবারও ইসি কেটে শাপলা প্রতীকের সাতটি নমুনা পাঠায়; তবুও কমিশন তা গ্রহণ করেনি—এই অভিযোগও দলের। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ইসিকে আইনি ব্যাখ্যা তুলে একটি পত্রও দিয়েছেন। দলটি বলছে, যেখানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত দলদের কাছে জাতীয় বা প্রামাণ্য প্রতীকের উপাদান গৃহীত হয়েছে, সেখানে শাপলা অগ্রাহ্য করার যৌক্তিকতা দেখা যাচ্ছে না।

দলের কর্ণধারদের ভয়াল টোন
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, শাপলা না দিলে এ বিষয়ের আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ইসিকে দিতে হবে; তা না হলে গেজেট প্রকাশকে তারা স্বৈরতান্ত্রিক বোঝাবে। এনসিপির অন্যান্য নেতা—দক্ষিণাঞ্চলের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম—তেও একই সুরে বলেছেন, দল শাপলা পেতে টিকে থাকবে এবং প্রয়োজন হলে সারাদেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলবে। তারা মনে করেন, কোনো আইনি বাধা ছাড়াই শাপলা অগ্রাহ্য করার প্রচেষ্টা রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে।

শেষ কথা
বর্তমানে ইসি–এনসিপি দ্বন্দ্বটি প্রতীকের বাছাই ও নিয়মাবলীর ব্যাখ্যার সীমানা ছাড়িয়ে গেলে রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে—দুই পক্ষই মাঠে তাদের পন্থা সিরিয়াসভাবে ভাবছে। নির্বাচন পর্যন্ত এই ইস্যুই এনসিপির প্রকাশ্য রাজনীতি ও ইসির স্বাধীনতা-ব্যাপী বিতর্কের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকতে পারে

মতামত দিন