রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক পর্যায়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবিসহ কয়েক দফা দাবি জানিয়েছে এবং নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সম্মেলনে সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরেন।

হেফাজতের বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্তরে সম্প্রতি সংগীত শিক্ষক নিয়োগের নোটিফিকেশন জারি  করা হয়েছে — যা তাদের মতে অগ্রহণযোগ্য। বহু বছর ধরে দেশের আলেমসমাজ ও অনেক ধর্মপ্রাণ অভিভাবক প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। হেফাজত দাবি করে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় দিক বিবেচনা না করে গান-বাদ্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যা তারা ‘ইসলামবিরোধী পরিকল্পনা’ হিসেবে দেখছেন।

মাওলানা আজিজুল হক বলেন, বর্তমান সরকার ও তার নীতিপ্রণেতারা ‘ধর্ম-বিদ্বেষী উগ্র সেক্যুলার’  গোষ্ঠীর সাথে মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার চালাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা হয়েছে। হেফাজত ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও দাবি জানিয়েছে, তবে উপযোগী কোনো পদক্ষেপ হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যদফতর বা উপদেষ্টা বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সংগঠনের মঞ্চ থেকে যা যা দাবি রাখা হয়েছে — সংক্ষেপে:

  • প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে সম্প্রতি জারি করা সংগীত শিক্ষক নিয়োগের গেজেট বাতিল করতে হবে এবং পূর্বের মতো ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ বিধি পুনরায় জারি করতে হবে।

  • কোরআন অবমাননার প্রতিটি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে; পাশাপাশি ধর্ম অবমাননা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কঠোর আইন প্রয়োজন। হেফাজত বলেছে, ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করা মানে সামাজিক সংহতি ভাঙার পথ প্রশস্ত করা — তাই ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সকল ধর্মবিশ্বাসীর অনুভূতিকে রক্ষা করে সর্বাত্মক আইন করতে হবে।

  • রাষ্ট্রীয়ভাবে ৫ মে দিনকে ‘শাপলা চত্ত্বর গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে; হেফাজত মনে করে ঐ দিনকে জাতীয় স্বীকৃতি না দিলে নির্যাতিত জনতার ত্যাগ বিস্মৃত রেখে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের অন্যান্য নেতারা ও উপদেষ্টা যারা ওই দাবিগুলোর পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানান।

মতামত দিন