রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও পুনরুদ্ধার চেষ্টায় জাতির সঙ্গে প্রতারনা করছে: সারজিস আলম।

নিজেস্ব প্রতিবেদক: 

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বুধবার বিকেলে পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখার পর এনসিপি উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর যারা আওয়ামী লীগকে আবার রাজপথে ফিরিয়ে আনতে চাইছে, তারা দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘লোকাল নৃসংশ্লিষ্ট মানুষের ত্যাগ ও রক্তের মুল্য ভুলে গিয়ে যদি কেউ আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য সুশীল মুখোশন পরেন, তা আমরা মেনে নেব না।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ—এবং দলটিকেও নিষিদ্ধ করা হবে—এ বিষয়ে আমরা কোন আপোশ করব না।’’

নাগরিক পার্টির এই নেতা বলেন, ‘‘জনগণ অনেক কিছু ছেড়ে দিতে পারে, কিন্তু তাদের সংকল্প ত্যাগ করবে না। এত বড় একটি দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছেড়ে দিয়ে কেউ ব্যক্তিগত ইমেজ রক্ষার চেষ্টা করলে আমরা তাকে ডামাড়ালো চোখে দেখব।’’

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে সারজিস আলম বলেন, শাপলা প্রতীক পাওয়ার ব্যাপারে কোনো আইনি বাধা নেই; তবু কমিশন ‘চাপ বা ভয়ের’ প্রভাবে প্রতীক দেয়নি—এটি নিঃসন্দেহে স্বেচ্ছাচারিতা। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের যাত্রার একবছরও হয়নি; তবু প্রতীকবিষয়ে এত জটিলতা কেন, তা তিনি প্রশ্ন করেন। যদি স্বাধীন সংস্থাগুলি স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত থাকে, তাহলে এ ধরনের কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না—এমনটাই তাদের শঙ্কা। প্রয়োজনে এনসিপি ভবিষ্যতে কমিশনের বিরুদ্ধে অনাস্থারভাব প্রকাশ করবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

সারজিস আলম যোগ করেন, প্রতিটি দলের নিজস্ব নীতি ও পছন্দ আছে—কিন্তু রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নম্রতা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, পঞ্চগড়সহ সব অঞ্চলের মানুষ ধর্মে নির্বিশেষে মিলেমিশে বসবাস করে; গুজব ছড়ানোর সুযোগ কেউ পাওয়া উচিত না।

এই পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে নগদ সহায়তা প্রদান করেন; স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন