৯ বছর পর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন।
আজ শনিবার কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ছয়জন নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সম্মেলনকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যাচ্ছে। স্টেডিয়ামে দুই পক্ষের জন্য তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে, এবং বিশাল মঞ্চের সঙ্গে ৩০ হাজার বর্গফুট অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বেলা ১১টায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মেলন উদ্বোধন করেন। ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা—শাহ মোহাম্মদ ওয়ারের আলী মামুন ও আবু ওয়াহাব আকন্দ। সভাপতিত্ব করবেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম।
দলের সূত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মো. শরীফুল আলমকে সভাপতি ও মাজহারুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম, তবে বক্তব্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়। তিন সপ্তাহ পর কেন্দ্র থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম চূড়ান্ত করা হয়। পরে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
এবার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান জেলা সভাপতি মো. শরীফুল আলম, যাকে ‘আনারস’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে জেলা কমিটির সহসভাপতি রুহুল হোসাইন।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম (‘রিকশা’), সদর উপজেলা সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (‘ফুটবল’), নিকলী উপজেলা সদস্য শফিকুল আলম রাজন (‘মাছ’) এবং সাজ্জাদুল হক (‘গোলাপ ফুল’)। তবে দলের গঠনতন্ত্রের ‘এক নেতা এক পদ’ বিধান পূরণ না হওয়ায় কিছু প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। তারা বক্তৃতা, সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতি দিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাউন্সিলররা তাদের নেতা নির্বাচন করবেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। এই নির্বাচন তার প্রমাণ। নেতা-কর্মীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন। আমি সবসময় তাদের পাশে থাকি এবং জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।’
মতামত দিন