পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির রিজভীর সতর্কবার্তা: রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রস্তাবিত ভোট ব্যবস্থার (পিআর) পদ্ধতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
রিজভী বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন সচেতন নয় এবং এটি তাদের পরিচিত ভোটাভুটি প্রথার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মানুষ স্বাভাবিকভাবে এলাকাভিত্তিক প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়; অপরিচিত দলীয় তালিকাভিত্তিক ভোটিং তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
রিজভী অভিযোগ করেন, পিআর পদ্ধতির প্রবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ ও ঈর্ষার প্রভাব রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ইসরায়েল, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে পিআর পদ্ধতির কারণে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে। এমনকি ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশেও পদ্ধতিটি নিয়ে নতুন করে পুনর্বিবেচনা চলছে। বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে অপরিণত দেশে এটি আরও বিপজ্জনক হতে পারে, যেমনটি ইভিএম পরীক্ষার সময় ঘটেছিল।
তিনি যোগ করেন, বিএনপি ১৬-১৭ বছর ধরে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে থাকবে। রিজভীর বক্তব্য, পিআর পদ্ধতির কারণে যদি নির্বাচনী অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়, তা কেবল বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ বৃদ্ধি করবে এবং দেশে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন, বিভ্রান্তি সৃষ্টির পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ও জনগণকেন্দ্রিক ব্যবস্থা গঠনে মনোযোগ দিতে হবে।
আলোচনার সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহেদুল কবির জাহিদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন