‘জনকণ্ঠ’ দখলের মতোই ‘মাই টিভি’ দখলে তৌহিদ আফ্রিদি ও তার বাবাকে গ্রেফতার:দাবি ভিপি নুরের।
নুর সোমবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ৬ মিনিটে নিজের ফেসবুকে প্রকাশিত এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নগদ অর্থ ও শেয়ার নিয়ে সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ায় কিছু ব্যক্তি ডিজিটাল ও শারীরিক মব ব্যবহার করে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যাত্রাবাড়ী থানার ‘ছাত্র হত্যা’ মামলায় কেন এক বছর পর তাদের গ্রেফতার করা হলো। মামলার বাদী কি জানেন, এই মামলায় আসামিদের মধ্যে আসলে কারা রয়েছে এবং আসাদুল হক বাবুর হত্যায় তাদের কী প্রমাণ আছে? নুর উল্লেখ করেন, যদি আফ্রিদি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে অপরাধ করতেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আলাদা মামলা করা যেত। তবে তা না করে কেন তাদেরকে ‘ছাত্র হত্যার’ মামলায় আসামি করা হলো, এটা কি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিবেচনাহীন পদক্ষেপ নয়?
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকার কারণে এ ধরনের গ্রেফতার দেশে ও বিদেশে মানবাধিকার সংস্থার নজরে আসবে। গণমাধ্যমের মালিক, ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটি এমনকি যে ব্যক্তিরাই মবের শিকার, তাদেরও অযাচিতভাবে মামলা ও গ্রেফতারের শিকার হতে হয়। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও প্রভাবিত হতে পারে।
নুর আরও সতর্ক করেছেন, প্রশাসনের ভুল পদক্ষেপ ফ্যাসিবাদের পুনরাবির্তিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি দাবি করেছেন, যেসব ব্যক্তি প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই ধরণের গ্রেফতার করাচ্ছে, তাদের মুখোস উন্মোচন ও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানায় মো. আসাদুল হক বাবুর হত্যার মামলায় গত ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেফতার হন। পরে সোমবার বিকেলে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর গত বছরের ৩০ আগস্ট নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। নাসির উদ্দীন সাথী ২২ নম্বর, আর তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে আছেন।

মতামত দিন