ঢাবি শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ: সাবেক সংগঠক আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বিতর্কিত অভিযোগ।
রোববার (৩ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে রায়হান লিখেছেন, কাদের তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন এবং তাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত দেখিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। রায়হান আরও জানান, কাদের নিজেই আন্দোলনের সময় রায়হানের কাছে ইংরেজি বক্তব্য ও প্রেস রিলিজ লিখিয়ে নিতেন, এমনকি শিবিরঘেঁষা হিসেবে পরিচিত সাদিক কায়েমের জন্যও বক্তব্য তৈরি করে দিতে বলেছিলেন, যার স্ক্রিনশট তিনি সংযুক্ত করেছেন।
অভিযোগে উঠে এসেছে, কাদের তার পোস্টে রায়হানকে ছাত্রলীগের ‘কুখ্যাত’ নেতা রিয়াজের অনুসারী বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, রায়হান অতীতে ছাত্রলীগের হয়ে হলজুড়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। এ অভিযোগের জবাবে রায়হান লেখেন, “আমার বক্তৃতাদানের দক্ষতার কারণে অনেকে পরামর্শ চাইতো, পরামর্শ দিলেই কি ছাত্রলীগ কর্মী হওয়া যায়?”
রায়হান জানান, ২০২০ সাল পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মিছিল-সভায় অংশ নিতে হয়েছে, ফেসবুকে ছাত্রলীগ সংক্রান্ত পোস্টও করতে হয়েছে, কারণ সেসময় হলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ছাত্রলীগের হাতে। তবে পরে তিনি সংগঠন থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেন এবং গেস্টরুমে না যাওয়ার কারণে মানসিক নির্যাতন ও হল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি পদে থাকার সময় ছাত্রলীগ আমাকে পদত্যাগে বাধ্য করতে নানা পাঁয়তারা চালায়। আমার সেক্রেটারি মেহেদি এই ঘটনার সাক্ষী।” নিজের পক্ষ থেকে রায়হান বলেন, গেস্টরুমে যদি কখনও কাউকে বকা দিয়ে থাকেন, তার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন, তবে কোনো সহপাঠীর অধিকার তিনি হরণ করেননি।
সবশেষে রায়হান কাদেরকে উদ্দেশ করে বলেন, “ভিপি হতে চাইলে ছোটলোকি নয়,আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করার সাহস থাকতে হবে। যারা আজ আমার নামে কুৎসা রটাচ্ছেন, তাদের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রইল।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্ররাজনীতিতে মতবিরোধ ও পারস্পরিক দোষারোপের একটি বড় চিত্রই উঠে এসেছে—যেখানে আদর্শ, সম্পর্ক, এবং পুরনো সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে পড়ছে।
মতামত দিন