সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে পোকা বা কীটপতঙ্গ চোরাচালানের ঘটনা বাড়ছে।
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
বিশ্বজুড়ে নানা প্রজাতির প্রাণী পাচারের খবর সাধারণ হলেও সম্প্রতি পোকা বা কীটপতঙ্গ চোরাচালানের ঘটনা বাড়ছে। বিশালকায় গন্ডার বা রঙিন পাখি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র জীবগুলোও পাচারের শিকার হচ্ছে।
তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও এই ক্ষুদ্র প্রজাতির চোরাচালান তেমন নজরে আসে না।
এ বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যে শুল্ক কর্মকর্তারা একটি স্যুটকেস খুলে সারি সারি ছোট টেস্ট টিউবে জীবন্ত রানি পিঁপড়া খুঁজে পান। এই ঘটনা প্রকাশ করে এক বিস্তৃত, গ্লোবাল পোকা পাচার চক্র।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, পোকা চোরাচালানের পরিধি বাড়লেও এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। ছোট ব্যাগ বা টিউব ব্যবহার করে পোকা পাচার করা হলেও, বৃহৎ প্রাণীর মতোই এগুলোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাংগাস নার্স ও এলিয়ট ডোরনবস জানিয়েছেন, অ্যানথ্রোপোসিন যুগে পোকামাকড়ের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ১-২ শতাংশ হারে কিছু প্রজাতির সংখ্যা কমছে। যুক্তরাজ্যের নিউ হ্যাম্পশায়ারে গুবরে পোকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, এবং পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে প্রজাপতির সংখ্যা বছরে ১.৬ শতাংশ হারে হ্রাস পাচ্ছে।
পোকামাকড় পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা ফসল পরাগায়ণ, বর্জ্য ভাঙা এবং মাটিতে পুষ্টি উপাদান ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করে। এছাড়া, তারা অনেক পাখি, মাছ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ করে। যখন কোনো প্রজাতির সংখ্যা কমে যায়, তখন খাদ্য শৃঙ্খলে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, মানুষ সাধারণত হাতি, বাঘ বা গন্ডারের মতো বৃহৎ প্রাণীর দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। গুবরে পোকা, প্রজাপতি, রানি পিঁপড়া বা স্টিক ইনসেক্টের মতো ক্ষুদ্র প্রাণীর প্রতি আগ্রহ তেমন নেই। এই কারণে পোকা পাচার নীরবভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র প্রাণীর বাণিজ্যও সহজে হচ্ছে, যেখানে বিক্রেতারা পরিচয় গোপন রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি সিআইটিইএস কিছু পোকা যেমন বার্ডউইং প্রজাপতি রক্ষা করতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষুদ্র পোকা তালিকাভুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোকা পাচারকে ছোট প্রাণী হিসেবে নেবার ভুল, বাস্তুতন্ত্রের জন্য দামের চরম বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আর্থ

মতামত দিন