জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় কড়া নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টার।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

নির্বাচনী সময়কে সামনে রেখে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় নিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোট ও গণভোট—দুই প্রক্রিয়া একসঙ্গে পরিচালনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও দপ্তরকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

সভায় নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়—এটি জাতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এই দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে তা ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি স্পষ্ট করেন, ভোটের দিন কোনো ধরনের প্রস্তুতিগত ঘাটতি যেন না থাকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাই এখন প্রশাসনের জন্য চূড়ান্ত নির্দেশ—সব সংস্থাকে সেটির আলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।

নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বডি ক্যামেরা ও সিসিটিভির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রগুলো কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে। বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।

সভায় জানানো হয়, এবারের নির্বাচনে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিটি ধাপে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ইতিবাচক আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় থাকলে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। এই মনোভাব ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানান, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বড় অংশ এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবেও একাধিক দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় একটি মিশন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রচার-প্রচারণার নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং সাইবার স্পেসে অপতথ্য মোকাবিলা এবারের নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যালট গণনায় সময় লাগতে পারে—এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানো রোধে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগের সহিংস ঘটনার সময় লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি ফেরাতে বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আনসার ও ভিডিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সশস্ত্র সদস্য মোতায়েন থাকবে, যাতে কোনো ধরনের বেআইনি হস্তক্ষেপ সম্ভব না হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভোটের আগেই মাঠপর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহারসহ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হবে। ভোটের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সব বাহিনী মাঠে সক্রিয় থাকবে।

বৈঠকে বডি ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই প্রযুক্তি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নতুন দিগন্ত তৈরি হবে।

সবশেষে জানানো হয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়মিত বিরতিতে এমন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও ঘন ঘন সমন্বয় সভা ডাকা হবে।

মতামত দিন