যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর সামরিক চাপ কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান সৌদি আরবের।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর সামরিক চাপ কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
গালফ অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সৌদি নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে—তেহরান যদি পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ইয়েমেনভিত্তিক মিত্রদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হলে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা তেল পরিবহনে বড় প্রভাব ফেলবে।
এই উদ্বেগ থেকেই ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
অন্যদিকে একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকেও কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলছে। দেশটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওমান সংলগ্ন অংশ দিয়ে জাহাজগুলোকে বাধাহীন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে—তবে তা নির্ভর করবে চলমান আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয় কি না তার ওপর।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই রুটে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বহু তেলবাহী জাহাজ ও নাবিক উপসাগরীয় এলাকায় আটকে পড়েছে বলে জানা গেছে। যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবুও প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার এই সমান্তরাল পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মতামত দিন