মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ৬টি বোমা নিখোঁজ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থেকে হারিয়ে যাওয়া ছয়টি শক্তিশালী বোমা আবারও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সামরিক পরিভাষায় এগুলোকে ‘ব্রোকেন অ্যারো’ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মৃত্যু ও ধ্বংস’ হুমকির প্রেক্ষাপটে এই নিখোঁজ বোমাগুলো কোনোভাবে শত্রু রাষ্ট্রের হাতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘ডুমসডে প্লেন’ ইরানের দিকে মোতায়েন করেছে। বোয়িং ৭০৭ এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এসব বিমান পারমাণবিক হামলা পরিচালনা এবং আকাশ থেকেই সামরিক সমন্বয় নিশ্চিত করার ক্ষমতা রাখে।
তবে মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, এখনও নিখোঁজ থাকা বোমাগুলো উদ্ধার করা সহজ হবে না, যদিও এগুলো সমুদ্রের গভীর তলদেশে বা দুর্গম এলাকায় পড়ে থাকতে পারে। এই অস্ত্রগুলো এখনও একটি বড় শহর ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।
সবচেয়ে আলোচিত নিখোঁজ ঘটনা ঘটে ১৯৫৮ সালে টাইবি দ্বীপের কাছে। তখন একটি বি-৪৭ হাইড্রোজেন বোমারু বিমান মাঝ আকাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তার সঙ্গে থাকা ‘মার্ক ১৫’ হাইড্রোজেন বোমাটি সমুদ্রে ফেলে দিতে হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে ডামি বোমা মনে করা হলেও পরে জানা যায়, এটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক অস্ত্র ছিল।
এরপরের কয়েক দশকে আরও পাঁচটি পারমাণবিক বোমা সমুদ্রের গভীর বা দুর্গম এলাকায় হারিয়ে গেছে। এসব অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পারমাণবিক প্রতিযোগিতার কারণে এগুলো বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে থেকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি কোনো রাষ্ট্র—বিশেষ করে ইরান—এই প্রযুক্তির নাগাল পায়, তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। টাইবি দ্বীপ অঞ্চলে এখন কোনো অনুসন্ধান কার্যক্রম নেই, তবে ভবিষ্যতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান করলে অতীতের এই দুর্ঘটনাগুলো বড় সুযোগ হিসেবে পরিণত হতে পারে।
অন্যদিকে, গত বছরের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে নির্দেশ দেন রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করার। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরনো ‘ব্রোকেন অ্যারো’ কেবল ইতিহাস নয়—এগুলো বর্তমানে এবং ভবিষ্যতের জন্যও বাস্তব ঝুঁকি। যতদিন এই ছয়টি নিখোঁজ পারমাণবিক বোমার অবস্থান নিশ্চিত না হয়, ততদিন এগুলো বৈশ্বিক নিরাপত্তার হুমকি হিসেবেই থেকে যাবে।
সূত্র: মিরর ইউকে

মতামত দিন