আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা নিহত ৩৭ ফিলিস্তিনি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

গাজায় ইসরা‍য়েলি বিমান হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ৩৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৬ শিশু রয়েছেন। এই আক্রমণ ঘটে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়।

রাফাহে বন্দুক হামলার পর একজন ইসরাইলি সৈন্য আহত হন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাদের নির্দেশ দেন গাজায় “কঠোর প্রতিক্রিয়া” দেখাতে।

দক্ষিণ গাজার রাফাহে ইসরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ জানান, “সৈন্যদের উপর হামলার জন্য হামাসকে চড়া মূল্য দিতে হবে। আমরা ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে জবাব দেব।”

গাজা সিভিল ডিফেন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতের আকাশে একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সাবরা এলাকার একটি বাড়ি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, পশ্চিমের শাতি শরণার্থী শিবিরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল-শিফা হাসপাতালের আশপাশ এবং মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ অঞ্চলের পূর্বাংশেও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

হামাসের কাসাম ব্রিগেডস অভিযোগ করেছে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। নিখোঁজ এক বন্দির মরদেহ হস্তান্তর স্থগিত রাখা হয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, যদি বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়, তবে বাকি ১৩ বন্দির মরদেহ উদ্ধারে বিলম্ব হতে পারে।

হামাস নেতা সুহাইল আল-হিন্দি বলেছেন, মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সমস্যার মুখে পড়া ইসরাইলের উপরই নির্ভর করছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর আছে। তিনি বলেন, “ছোটখাটো সংঘাত ঘটতে পারে, কিন্তু আমরা আশা করি শান্তি বজায় থাকবে।”

গাজার সরকারি মিডিয়া জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর কমপক্ষে ৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকদের জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো সীমিত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে হামলা বন্ধ হয়নি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরু হওয়ার পর গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৬৮,৫০০ ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছে প্রায় ১,৭০,০০০ মানুষ।

মতামত দিন