আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি যুক্ত হলে আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ সম্ভব: ট্রাম্প।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, খুব শিগগির আব্রাহাম চুক্তি আরও বিস্তৃত হবে। তিনি আশাবাদী, এতে সৌদি আরবও অংশগ্রহণ করবে।

তবে গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযান এবং মুসলিম বিশ্বের ক্ষোভ এই পরিকল্পনার পথে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

শুক্রবার ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি আশা করি সৌদি আরবও এতে যোগ দেবে। যদি তারা আসে, তবে অন্যান্য দেশও অংশগ্রহণ করবে।”

২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল। ট্রাম্পের বক্তব্যে চুক্তিটিকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং তিনি দাবি করেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আনতে সাহায্য করবে।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। গত দুই বছরে ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে, পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়েছে এবং কাতারসহ ছয়টি দেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এই কর্মকাণ্ডে আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসে দোহায় অনুষ্ঠিত আরব লীগ ও ওআইসির জরুরি সম্মেলনে ৬০টি দেশ একযোগে ইসরায়েলের হামলা নিন্দা করে এবং কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

সৌদি আরব এই মুহূর্তে আরব শান্তি উদ্যোগে অটল রয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।

একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, সৌদি নাগরিকদের ৮১ শতাংশই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা যুদ্ধ এবং আরব বিশ্বের ক্ষোভের কারণে ট্রাম্পের আশা করা আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ আপাতত অনিশ্চিত।

মতামত দিন