নেপালের জেন-জি বিক্ষোভের পর দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল আরেক দেশ।
নেপালের জেন-জি আন্দোলনের ঠিক কয়েকদিন পর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় শনিবার বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে কোটি কোটি ডলারের অনিয়মের অভিযোগ করেছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ ও সেনারা বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্য মাঠে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। এতে অন্তত ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়েছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পানির কামান ব্যবহার করেছে। একইসঙ্গে কিছু পুলিশ সদস্যও বিক্ষোভকারীদের দিকে পাথর ছুঁড়তে দেখা গেছে।
ম্যানিলার মেয়র ফ্রান্সিসকো ইস্কো মোরেনো ডোমাগোসো জানিয়েছেন, আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সবাইকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা ম্যানিলার পতাকা উড়িয়ে এবং “আর নয়, যথেষ্ট হয়েছে, জেলে পাঠাও” লেখা ব্যানার হাতে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, যারা দুর্নীতিতে জড়িত তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।
স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিস্ট আলথিয়া ত্রিনিদাদ বলেন, “আমরা দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছি, আর সরকারী কর্মকর্তারা বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন। আমাদের ট্যাক্সের টাকা তাদের বিলাসবহুল ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।”
ম্যানিলা সিটি প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, লুনেটা পার্কে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জুলাইয়ে এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পর একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেন। কমিশন ৯,৮৫৫টি প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত করবে। এই প্রকল্পগুলোর মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৫৪৫ বিলিয়ন পেসো (প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার)।
জনগণের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়, যখন ধনী ব্যবসায়ী দম্পতি সারা ও প্যাসিফিকো ডিসকায়া একই প্রকল্পে কন্ট্রাক্ট পান। তাদের মালিকানাধীন বিদেশি বিলাসবহুল গাড়ির তথ্যও প্রকাশিত হয়।
প্রেসিডেন্ট মার্কোস বলেন, “বিক্ষোভের জন্য জনগণ দায়ী নয়। আমরা চাই আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে হোক।” তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী ‘রেড এলার্ট’-এ রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদিকরা জানান, বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোষ্ঠী। ঐতিহাসিকভাবে কাথলিক চার্চ ফিলিপাইনের জনগণকে আন্দোলনে প্রেরণা দিয়ে আসছে। এছাড়া বিক্ষোভটি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের আইনশৃঙ্খলা দিবসের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদকারীরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
২৩ বছর বয়সী নার্সিং ছাত্রী অ্যালি ভিলাহার্মোসা বলেন, “যদি এই প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকে, তাহলে স্বাস্থ্য খাতের জন্য কেন নেই? এটা সত্যিই লজ্জাজনক।”
এই বিক্ষোভের মাধ্যমে ফিলিপাইনের সাধারণ জনগণ সরকারী দুর্নীতি ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় বার্তা প্রদান করছে। সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার থাকলেও হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানাচ্ছে।
মতামত দিন