জার্মানিতে টেসলা দুর্ঘটনা: ইলেকট্রনিক দরজা খুলতে না পেরে প্রাণ গেল ৩ জনের।
জার্মানির একটি সড়কে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা খাওয়ার পর আগুন ধরে যায় টেসলা। ভেতরে আটকে পড়ে প্রাণ হারান ৪৩ বছর বয়সী এক চালক ও তার সঙ্গে থাকা দুই শিশু।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়ির দরজা খোলার সুযোগ না পেয়ে তারা ভেতরেই পুড়ে মারা যান। তবে নয় বছরের আরেকটি শিশু অল্পের জন্য বেঁচে যায় এবং তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী রোমান জেদ্রজেজেউস্কি জানান, তিনি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে গাড়ির দিকে ছুটেছিলেন। তবুও ভেতরে থাকা তিনজনকে উদ্ধার করতে পারেননি। তার ভাষায়, “আমি প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে দরজা খোলা সম্ভব হয়নি।”
স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, টেসলার ইলেকট্রনিক দরজা খোলার জন্য বোতাম ব্যবহার করতে হয়,যা দুর্ঘটনার সময় কাজ নাও করতে পারে। ভেতরে ম্যানুয়াল বিকল্প থাকলেও শিশুরা সম্ভবত সেটি ব্যবহার করতে পারেনি।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়, এই ধরনের দুর্ঘটনায় গাড়ির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যর্থ হলে দরজার সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়তে পারে।
এর আগে, জার্মানির অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন এডিএসি সতর্ক করেছিল যে টেসলার দরজার নকশা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আর মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্র্যাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, ২০২১ সালের মডেল–ওয়াই সিরিজের প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার গাড়ির ইলেকট্রনিক দরজার হাতল নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কানাডার টরন্টোতে গত বছর টেসলার দরজা খুলতে না পারায় চারজন তরুণ প্রাণ হারান, যখন দুর্ঘটনার পর তাদের গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

মতামত দিন