আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে: গাজায় পাঁচটি ধারার চার দফায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ইসরায়েল ২০২৩ সালে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর এমনভাবে সহিংসতা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞায়িত গণহত্যার ধারার মধ্যে পড়ে। নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরুর পর সংজ্ঞায়িত পাঁচটি গণহত্যার কাজের মধ্যে চারটিতে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ চারটি হলো—গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর আঘাত, গোষ্ঠীটি ধ্বংসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ করা।

প্রতিবেদনটি ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্য ও সেনাদের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনের সমস্ত বিষয় সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটিকে “বিকৃত ও মিথ্যা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা দাবি করেছে, কমিশনের তিনজন বিশেষজ্ঞ হামাসের প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, যা বহুবার ভণ্ডুল হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন একটি হামলার জবাবে ইসরায়েলি সেনারা গাজায় আক্রমণ শুরু করে। ওই অভিযান থেকে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। পরবর্তী সময়ে হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ৬৪,৯০৫ জন নিহত হয়েছেন।

নির্যাতনের কারণে জনসংখ্যার বড় অংশ বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ঘরের প্রায় ৯০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা গাজায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের জন্য ২০২১ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠন করে। তিন সদস্যের এই দলটি নেতৃত্বে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই, যিনি রুয়ান্ডার গণহত্যার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অন্যান্য সদস্য হলেন অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ ক্রিস সিডোটি এবং ভারতের ভূমি ও আবাসন অধিকার বিশেষজ্ঞ মিলুন কোঠারি।

কমিশন পূর্বেও জানিয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলার পর হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী যুদ্ধাপরাধ করেছে, এবং গাজায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত। সর্বশেষ প্রতিবেদনে কমিশন উল্লেখ করেছে, এটি এখন পর্যন্ত সংঘটিত যুদ্ধসংক্রান্ত সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিসংঘ অনুসন্ধান। যদিও প্রতিবেদনের প্রামাণ্যতা অনেকটা স্বীকৃত, এটি জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।

৭২ পৃষ্ঠার নথিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদে সংজ্ঞায়িত পাঁচটি কাজের মধ্যে চারটি—জাতিগত, ধর্মীয় বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত—ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগ করেছে।

সূত্র: বিবিসি

মতামত দিন