আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় অবরোধ ভাঙতে নতুন ত্রাণবাহিনী পাঠাচ্ছেন অধিকারকর্মীরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ফেনিষ্টারকে ঠিক রাখতে নতুন ত্রাণ জাহাজ প্রস্তুত করছে অধিকারকর্মীরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার (৩১ আগস্ট) স্পেন থেকে যাত্রা শুরু করবে নৌবহনগুলো।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গাজায় তীব্র খাদ্য সংকটের কারণে মানবিক বিপর্যয় ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ত্রাণবোঝাই  নৌবহন গাজা অভিমুখে যাত্রা করতে চলেছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামে বিশাল নৌবহরে অংশ নিচ্ছেন ৪৪টি দেশের শত শত অধিকারকর্মী। এর মধ্যে সুইডিশ পরিবেশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং পর্তুগিজ বামপন্থি রাজনীতিক মারিয়ানা মোর্তাগুয়াও রয়েছেন।

নৌ অবরোধ ভেঙে তাদের গাজায় প্রবেশের চেষ্টা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই তারা ইসরাইল সরকারের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। থুনবার্গরা এর আগে আরও দুইবার ত্রাণজাহাজ নিয়ে গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছেন। তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তাদের গাজায় পৌঁছতে দেয়নি।

ইসরাইল গাজায় গত ১৫ বছর ধরে অবরোধ চালাচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর সংঘাত শুরু হলে অবরোধ আরও জোরদার করা হয়। অধিকারকর্মীরা শুরু থেকেই এই অবরোধ ভাঙতে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, কিন্তু প্রতিবার ব্যর্থ হয়েছেন। ২০১০ সালে তুরস্কের নেতৃত্বে মাভি মারমারা ফ্লোটিলা গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে ইসরাইলি বাহিনী জাহাজের ওপর গুলি বর্ষণ করে। এতে ১০ জন নিহত হন।

চলতি বছরের মার্চে ইসরাইল সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে। ফলে ভূমধ্যসাগর পাড়ের ভূখণ্ডে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেয়। ৬ জুন যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী নৌযান ম্যাডলিন ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। তিন দিন পর ৯ জুন ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জাহাজটি জব্দ করে এবং ১২ আরোহীকে আটক করে।

এক মাস পর ইতালির সিরাকুসা বন্দর থেকে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের নতুন জাহাজ হান্দালা গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। জাহাজটিতে ছিল ‘জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী’, যেমন শিশুখাদ্য, ডায়াপার, খাবার ও ওষুধ। কিন্তু ২৬ জুলাই ইসরাইলি নৌবাহিনী গাজা উপকূল থেকে ৪৭ কিমি দূরে জাহাজটি আটকে মালামাল জব্দ করে এবং থুনবার্গসহ ১৩ জন কর্মীকে অপহরণ করে।

কিছুদিন পর গ্রেটা থুনবার্গ নতুন অভিযানের ঘোষণা দেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি জানান, “৩১ আগস্ট স্পেন থেকে ডজন ডজন নৌযান নিয়ে গাজায় ইসরাইলের অবরোধ ভাঙার সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা চালাব। ৪ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ও অন্যান্য বন্দর থেকে আরও নৌযান যুক্ত হবে। একই সময়ে ৪৪টিরও বেশি দেশে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।”

এদিকে দুর্ভিক্ষের মধ্যেই শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ৬৯২তম দিনের মতো গাজাজুড়ে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে ভোর থেকে শিশুসহ কমপক্ষে ৪১ ফিলিস্তিনি নিহত হন। দক্ষিণে ইসরাইল ঘোষিত ‘মানবিক অঞ্চল’ আল-মাওয়াসিতে ত্রাণ নিতে গিয়েও নিহত হন কয়েকজন। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২,৯৬৬।

গাজা শহর দখলের জন্য ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরাইল। সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে, জাবালিয়া এলাকায় হামাসের টানেল ধ্বংস ও এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সামরিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে

মতামত দিন