যুক্তরাষ্ট্র কিংবা রাশিয়ার ফাঁদে পা দেবে না চীন।
বিশ্বে বর্তমানে ৯টি দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে ৩ হাজার ৭০৮টি পরমাণু ওয়ারহেড এবং রাশিয়ার আছে ৪ হাজার ৪৮০টি।
চীন স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা রাশিয়ার ফাঁদে পা দেবে না। দেশটির ভাষায়, লেজকাটা শেয়ালের সৌন্দর্যে তারা মুগ্ধ নয়, বরং এ ধরনের প্রস্তাবে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকেও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আলোচনায় টানার চেষ্টা করেছেন।
এর আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি মনে করি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ একটি বড় লক্ষ্য। রাশিয়া রাজি আছে। আমি বিশ্বাস করি চীনও রাজি হবে। আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঘটতে দিতে পারি না।” তবে চীন তাতে সাড়া দেয়নি।
স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর বহু পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস হলেও রাশিয়া এখনো এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। বিশ্বের মোট ওয়ারহেডের প্রায় ৯০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে। তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত সর্বশেষ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়।
শি জিনপিংয়ের দেশ বরাবরই “এক দেশ, এক নীতি” এবং “এক কথা” নীতিতে বিশ্বাসী। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন খেলায় অংশ নেবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রেও চীন দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। এজন্য দেশটি ক্রমেই বাড়াচ্ছে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার।
এই প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক পরমাণু আলোচনার প্রস্তাব মোটেও যৌক্তিক বা বাস্তবসম্মত নয়। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এক কাতারে নেই।”
অর্থাৎ, যেখানে ট্রাম্প চাইছেন রাশিয়া ও চীনকে আলোচনায় বসাতে, সেখানে চীন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে—তারা সহজে সেই টেবিলে বসবে না।

মতামত দিন