যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শনাক্ত হয়েছে মাংসখেকো পরজীবী মাছি।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো এক মানুষের দেহে মাংস খাওয়ার পরজীবী মাছি (‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’) ধরা পড়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশ এল সালভাদর ভ্রমণ শেষে মেরিল্যান্ডে ফিরেন, এবং তখন তার শরীরে এই পরজীবী পাওয়া যায়।
সিডিসি ৪ আগস্ট এই সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে। রোগীর পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।কিছু আগে এক সূত্র জানিয়েছিল, রোগী আসলে গুয়াতেমালা থেকে ফেরেন, তবে সরকারি তথ্য ভিন্ন।
সংক্রমণের প্রকৃতি
স্ক্রুওয়ার্ম মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। স্ত্রী মাছি উষ্ণ রক্তের প্রাণীর ক্ষতস্থানে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বের হওয়া লার্ভা ধীরে ধীরে প্রাণীর মাংস খেতে থাকে। চিকিৎসা না করলে এটি প্রাণের জন্য বিপজ্জনক।
যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত কোনো গবাদিপশুর মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েনি। তবে মানুষে সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই গবাদিপশু ও মাংস শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স জানিয়েছেন, টেক্সাসে নতুন একটি জীবাণুমুক্ত মাছি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
আর্থিক প্রভাব
কেবল টেক্সাসেই সংক্রমণ ছড়ালে গবাদিপশুর মৃত্যু, চিকিৎসা ও শ্রম খরচ মিলিয়ে অর্থনীতিতে প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে।
ইতিহাস ও প্রতিকার
১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে জীবাণুমুক্ত পুরুষ মাছি ছড়িয়ে স্ক্রুওয়ার্ম নির্মূল করা হয়েছিল। এই পুরুষ মাছি স্ত্রী মাছির সঙ্গে মিলিত হলেও ডিম ফুটত না। বর্তমানে সেই কৌশল পুনরায় প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থা
মানুষের শরীরে সংক্রমণ বিরল হলেও বিপজ্জনক। চিকিৎসার মাধ্যমে লার্ভা সরিয়ে ক্ষত জীবাণুমুক্ত করতে হয়। দ্রুত চিকিৎসা নিলে রোগী বাঁচতে পারেন, তবে প্রক্রিয়াটি কষ্টসাধ্য

মতামত দিন