পাকিস্তান ও কাশ্মীরে ভয়াবহ বন্যা: মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জুন থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ ও বন্যায় বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুনের গ্রামগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে, এবং মৃতের সংখ্যা এত বেশি যে অনেক জায়গায় দাফনের জন্য মানুষও পাওয়া যাচ্ছে না।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশির ভাগ মৃত্যু ঘটেছে বাড়িঘর ধসে। বেঁচে থাকা মানুষরা এখন পানিবাহিত রোগে ভুগছেন। চলতি বছরের মধ্যে গত সপ্তাহে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে, প্রধানত খাইবার পাখতুনখোয়ায়।
পাকিস্তান বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২৫ কোটি মানুষের আবাসস্থল জলবায়ুর প্রভাবে বিপন্ন, যদিও দেশটির বৈশ্বিক তাপ উৎপাদন মাত্র ০.৫ শতাংশ। জুলাইয়ে পাঞ্জাবে তীব্র বর্ষণে গ্রাম ও ক্ষেত তলিয়ে গেছে, ইসলামাবাদ সংলগ্ন রাওয়ালপিন্ডিতে রাস্তাগুলো নদীর মতো ভেসে গেছে।
পাকিস্তানই নয়, ভারত শাসিত কাশ্মীরেও বন্যার প্রভাব দেখা দিয়েছে। হিমালয়ের চাশোতিতে কমপক্ষে ৪৬ জন মারা গেছেন এবং ২০০-এর বেশি নিখোঁজ। ধরালি গ্রামে পানির প্রবাহে চারজনের মৃত্যু এবং বহু নিখোঁজ হয়েছে।
এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ পাকিস্তানের জন্য নতুন নয়। ২০২২ সালের বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন্যায় ১৭০০-এর বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন, হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছিলেন এবং প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

মতামত দিন