দারফুরে আমিরাতের বিমানে সুদানি বাহিনীর হামলা, নিহত অন্তত ৪০।
দারফুরের নিয়ালা বিমানবন্দরে একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়েছে সুদানের বিমান বাহিনী। এতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
বুধবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে চালানো এই হামলার সময় বিমানে কলম্বিয়ান ভাড়াটে যোদ্ধারা ছিলেন। বিমানটি অবতরণের সময়ই আঘাত হানে সেনাবাহিনী। বিমানটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
স্থানীয় এক সামরিক সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, ধ্বংস হওয়া বিমানটি আমিরাত থেকে উড়ে এসেছিল এবং এর ভেতরে ছিল বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম। এগুলো আধাসামরিক গোষ্ঠী আরএসএফ-এর জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর আরএসএফ কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আমিরাতও বিমান হারানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। বরং দেশটির এক কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো জানিয়েছেন, হামলায় তার দেশের কতজন নাগরিক নিহত হয়েছেন তা জানার চেষ্টা করছেন তারা। নিহতদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত আরএসএফকে ড্রোনসহ উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে খার্তুম সরকার। যদিও আমিরাত সেই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
সম্প্রতি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবাধিকার গবেষণাগার প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে নিয়ালা বিমানবন্দরে চীনে তৈরি দূরপাল্লার ড্রোনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। সেনাবাহিনী বলছে, তাদের কাছে আছে এমন নথিপত্র, যা দিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব যে আরএসএফের হয়ে লড়তে কলম্বিয়ান ভাড়াটে সেনাদের মোতায়েন ও অর্থায়ন করছে আমিরাত।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষদিকে দারফুরে পৌঁছাতে শুরু করে কলম্বিয়ান যোদ্ধারা। বর্তমানে তারা বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

মতামত দিন