আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে ‘গুন্ডামি’ বলে কটাক্ষ চীনা রাষ্ট্রদূতের।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং। ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক বসানোর জেরে বৃহস্পতিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘একবার ছাড় দিলে গুন্ডারা মাইল হাঁটে।

পোস্টের সঙ্গে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের একটি মন্তব্য জুড়ে দেন, যেখানে ওয়াং বলেন, “শুল্ককে রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার বানানো জাতিসংঘ সনদ ও ডব্লিউটিও বিধির লঙ্ঘন। এটি অবৈধ, অজনপ্রিয় এবং দীর্ঘস্থায়ী নয়।”

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও, কৃষি ও দুগ্ধপণ্যে মার্কিন কোম্পানির প্রবেশাধিকার না দেওয়া এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় আলোচনা থেমে যায়। এর পরপরই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে প্রথমে ২৫ শতাংশ এবং পরে আরও ২৫ শতাংশ  শুল্ক আরোপ করেন। এর প্রথম ধাপ ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে, দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হবে ২৭ আগস্ট।

একইসঙ্গে চীনের ওপরও শুল্ক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “চীনের বেলায়ও এমন কিছু হতে পারে। এখনো নিশ্চিত না।” তাঁর কথায় ইঙ্গিত, শুধু ভারত নয়, আরও কিছু দেশ এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তেলের বড় ক্রেতা ভারত, চীন ও তুরস্কের ওপর শুল্ক চাপিয়ে পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ করতে চাইছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “যুদ্ধ যদি শুক্রবারের মধ্যে না থামে, তাহলে এসব দেশকে রাশিয়ার তেলের জন্য পরোক্ষ শুল্ক গুনতে হবে।”

এদিকে, বছরের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের।  একই সময়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে অংশ নিতে চীন যেতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও, যেখানে তার সঙ্গে শি জিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: ইকোনমিক টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মতামত দিন