ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞানী থেকে ইসরায়েলি গুপ্তচর. ইরানি বিজ্ঞানীর ফাঁসি কার্যকর।
বুধবার ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ভাদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
রুজবেহ ভাদির পরিচয় শুধু একজন গুপ্তচর নয়, বরং তিনি ছিলেন রিঅ্যাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এক বিজ্ঞানী। আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই গবেষক ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন।
গুগল স্কলার অনুযায়ী, ২০১১ সালে তিনি ইরানের দুই শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানী আব্দুলহামিদ মিনুচেহর ও আহমেদ জোলফাগারির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অংশ নেন। এই দুই বিজ্ঞানী চলতি বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলাকালে প্রাণ হারান। অভিযোগ উঠেছে, তাদের সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য মোসাদের হাতে তুলে দেন ভাদি।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা মিজান জানিয়েছে, ভাদিকে অনলাইনের মাধ্যমে নিয়োগ করে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। মোসাদের একজন কর্মকর্তা যাচাইয়ের পর তাকে ‘কেভিন’ নামে পরিচিত এক হ্যান্ডলারের অধীনে কাজ করার দায়িত্ব দেন।
তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট গ্যাজেট সরবরাহের মাধ্যমে তাকে গোপন তথ্য সংগ্রহে লাগানো হয়। আদালতের তথ্যমতে, তার কাজের বিনিময়ে প্রতি মাসে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হতো।
রুজবেহ ভাদির এই অবনতির গল্প ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বাসঘাতকতার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। একজন জাতীয় সম্পদ কীভাবে শত্রুর হাতে অস্ত্র হয়ে উঠল—তা নিয়ে এখন তীব্র আলোচনা চলছে দেশজুড়ে।
মতামত দিন