আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া সফরে পারমাণবিক গবেষণা বিজ্ঞানীদের পাঠিয়েছিল ইরান।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

২০২৪ সালের আগস্টে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল রাশিয়া সফর করে। সফরটি তখন বেসরকারি বলে দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে জানা গেছে—দলটির সদস্যরা ইরানের সামরিক গোয়েন্দা ও নিষিদ্ধ পারমাণবিক গবেষণা ইউনিটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এক গোপন সূত্রের বরাতে বিষয়টি প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে  বলা হয়, মস্কো সফরে নেতৃত্ব দেন ইরানের ৪৩ বছর বয়সী পারমাণবিক পদার্থবিদ আলি কালভান্দ, যিনি কূটনৈতিক পাসপোর্টে রাশিয়া যান। তার সঙ্গে আরও চারজন ছিলেন, যাদের পরিচয় পরে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে আসে।

প্রথমে সফরকারীরা নিজেদের একটি বেসরকারি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিলেও, পরে জানা যায়—তাদের মধ্যে একজন সামরিক কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অফিসার এবং বাকিরা ইরানের প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ও গবেষণা সংস্থা এসপিএনডি-র সঙ্গে যুক্ত।

উল্লেখ্য, এসপিএনডি হচ্ছে সেই সংস্থা, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির অব্যাহত উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করে এবং দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যমতে, এই সফরের সময় প্রতিনিধিরা রাশিয়ার এমন কিছু কোম্পানি পরিদর্শন করেন, যারা দ্বৈত-ব্যবহারের উপকরণ ও প্রযুক্তি—যেমন ক্লিস্ট্রন, ইলেকট্রন অ্যাক্সিলারেটর এবং পারমাণবিক ইমপ্লোশন সিমুলেশন সরঞ্জাম—উৎপাদন করে। সফরটি ছিল অত্যন্ত লক্ষ্যভিত্তিক এবং  সামরিক ও বেসামরিক প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহারের বিষয়েও আগ্রহ দেখান তারা।

দলটিতে নিউট্রন জেনারেটর ও বিকিরণ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ ছাড়াও যুক্ত ছিলেন এমন একজন, যিনি একসময় এসপিএনডি’র হয়ে কাজ করতেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান।

তেহরান সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। সর্বোচ্চ নেতা  আয়াতুল্লাহ খামেনি নিজেও পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবস্থানের কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। তবে ফাঁস হওয়া এসব তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে—ইরান কি গোপনে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি জোরদার করছে?

ইরান ইন্টারন্যাশনাল গত বছর নিজেদের তিনটি স্বাধীন সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল, এসপিএনডি পুনর্গঠন করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র গোপনে তার সামরিক পারমাণবিক কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

মতামত দিন