ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে বিপাকে অ্যাপল, ভোক্তাদের গুনতে হতে পারে দ্বিগুণ অর্থ।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুদ্ধ থামানো না গেলে এবার আরও কঠোর পথে হাঁটতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে শুক্রবারের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করছে এমন দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র সেকেন্ডারি শুল্ক বসাবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে জানা যায়, এসব সেকেন্ডারি শুল্কের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া ওইসব দেশের পণ্যের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে। ফলে এসব দেশের রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে মার্কিন বাজারে। এই তালিকায় রাশিয়ার বড় ক্রেতা ভারত, চীন ও তুরস্কের নাম উঠে আসছে।
রাশিয়া বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক, আর জ্বালানি খাতই তাদের প্রধান রপ্তানি উৎস। যদিও ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি কমতির দিকে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি জ্বালানির দামে পড়বে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাংক ‘ক্যাপিটাল ইকোনেমিকস’-এর জ্বালানি বিশ্লেষক কিয়েরান টম্পকিনস মনে করেন, এই শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হলে বাজারে রাশিয়ার তেল-গ্যাসের সরবরাহ সংকুচিত হবে এবং দাম বাড়বে। পাশাপাশি ভারত, যেটি এখন রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ক্রেতা, সেক্ষেত্রে বড় আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
এর ফল পড়বে সরাসরি আমেরিকান ভোক্তাদের ওপরও। কারণ, অ্যাপলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এখন ভারতে আইফোনসহ ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরি করছে। এই পণ্যগুলো যদি সেকেন্ডারি ট্যারিফের আওতায় পড়ে, তাহলে আমেরিকান ক্রেতাদের সেই ফোন কিনতে দ্বিগুণ দাম গুনতে হতে পারে।
ট্রাম্প ইতিপূর্বে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এবার রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনে যুক্ত দেশগুলোকেও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যুদ্ধ থামানোর জন্য বাণিজ্যকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে রাশিয়া ও তাদের মিত্র দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর।

মতামত দিন