ভিজিট ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনল কুয়েত।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম আরব টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা কুয়েতকে পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমাদের ভিসা নীতিমালা পুনর্গঠন করা হচ্ছে।”
ভিসা সংশ্লিষ্ট ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নতুন নিয়মে পর্যটন, পারিবারিক ও অন্যান্য ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ ১২ মাস পর্যন্ত হতে পারবে। অবশ্যই প্রতিটি ভিসা আবেদন নির্দিষ্ট ধরণের শর্ত, স্পনসর সংক্রান্ত অনুমোদন এবং কুয়েতি কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিবেচিত হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এতদিন পারিবারিক ভিজিট ভিসায় আসা যাত্রীদের কেবল কুয়েতি এয়ারওয়েজ ব্যবহার করতে হতো। এখন থেকে মিডল ইস্ট এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও এসব যাত্রী বহনে সক্ষম হবে।
এদিকে বাংলাদেশিদের জন্যও কুয়েতে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস নতুন একটি ‘ভিসা সত্যায়ন ব্যবস্থা’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কুয়েত আগমনের আগেই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার আওতায় দূতাবাসের প্রতিনিধি দল নিয়োগকারী কোম্পানির আবাসন, চুক্তিপত্র ও কর্মপরিবেশ সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করে। সবদিক পর্যালোচনা করে উপযুক্ত মনে হলে ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে বহু বাংলাদেশি শ্রমিক ইতোমধ্যেই প্রতারণা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
নতুন নীতিগুলো কুয়েতে প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি দেশের পর্যটন ও বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মতামত দিন