হিমাচল প্রদেশে হঠাৎ বন্যা এবং ভূমিধসে অন্তত ১৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশে দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন দুর্যোগ। টানা বৃষ্টিপাত, হঠাৎ বন্যা এবং ভূমিধসে রাজ্যজুড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড বর্ষণের ফলে রাজ্যের ৩০৫টি জাতীয় মহাসড়কসহ ৩০৯টি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ।
গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত হয়েছে হিমাচলের অন্তত ২৩৬টি পানি সরবরাহ প্রকল্প এবং ১১৩টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার। ফলে বহু এলাকায় পানির তীব্র সংকট ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয়রা।
সরকারি তথ্যমতে, দুর্যোগে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ ভূমিধস, কেউ আকস্মিক বন্যা বা মেঘভাঙা বৃষ্টির কবলে পড়ে, কেউ আবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বা পানিতে ডুবে মারা গেছেন। দুর্ঘটনার তালিকায় রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮১ জনও।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মান্দি জেলায়। সেখানে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই মারা গেছেন ২৩ জন, আর বাকি ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বর্ষার নানা দুর্যোগে।
বন্যায় কৃষিক্ষেত্রেও ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ৮৮ হাজার ৮০০ একর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রাজ্য কৃষি বিভাগ।
হিমাচল প্রদেশে দুর্যোগের এই চিত্র আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন রাজ্যের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমাচলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই বর্ষাকালে সেখানে অতিবৃষ্টি, হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি সবসময়ই বেশি থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে অপরিকল্পিত নগরায়ন, বন উজাড় ও পাহাড় কেটে নির্মাণকাজ বেড়ে যাওয়ায় দুর্যোগের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট উদ্বেগ জানিয়ে মন্তব্য করেছে— যদি অবিলম্বে প্রকৃতিপরিপন্থী নগরায়ন, অরক্ষিত শিল্পায়ন এবং বনাঞ্চল ধ্বংস ঠেকাতে না পারা যায়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে হিমাচল প্রদেশ হয়তো মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।

মতামত দিন