আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

স্বামীকে হত্যা করে প্রেমিককে বিয়ে, পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ভয়াবহ হত্যার রহস্য।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভয়াবহ এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।  মাদকাসক্ত স্বামী ও তার অপরাধপ্রবণতা থেকে মুক্তি পেতে ৩৪ বছর বয়সী সোনিয়া নামে এক নারী পরিকল্পিতভাবে স্বামী পীতম প্রকাশকে হত্যা করেন।

পরে মরদেহ গোপনে ফেলে দেওয়া হয় পাশের রাজ্যের একটি খালে। তবে পুরো ঘটনাটি সামনে চলে আসে শুধুমাত্র একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে।

পুলিশ জানায়, বহু মামলার পলাতক পীতম প্রকাশকে খুঁজছিল দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে খোঁজ চালাতে গিয়েই এক জটিল হত্যাকাণ্ডের সূত্রে পৌঁছায় তারা। তদন্তে উঠে আসে, পীতমের স্ত্রী সোনিয়াই তাকে খুনের জন্য লোক ভাড়া করেন। উদ্দেশ্য ছিল প্রেমিক রোহিতকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করা।

নেশা, নির্যাতন আর অস্থির দাম্পত্য

মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন সোনিয়া, যাঁর স্বামী পীতম ছিলেন তার চেয়ে ২৬ বছরের বড়। পীতম ছিলেন একজন পরিচিত অপরাধী, যিনি অস্ত্র বহন, ডাকাতি, অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং ছিলেন মাদকাসক্ত। বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েও সোনিয়া স্বামীকে পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হন।

২০২৩ সালে ট্যাক্সিচালক রোহিতের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রোহিত নিজেও এক সময় অপরাধ জগতে যুক্ত ছিলেন। কিছুদিন পর সোনিয়া তাকে বলেন, পীতমকে হত্যা করতে। রোহিত সরাসরি খুন করতে রাজি না হলেও জানান, ছয় লাখ টাকা দিলে ভাড়াটে খুনি জোগাড় করতে পারবেন। অর্থাভাবে বিষয়টি তখন থেমে যায়।

খুনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

২০২৩ সালের জুলাই মাসে পীতম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে যান তার বোনের বাড়ি সোনিপাতে। সেখানেই সোনিয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন স্বামীকে হত্যার। বোনের স্বামীর ভাই বিজয়ের সঙ্গে চুক্তি হয় ৫০ হাজার টাকায়। রাতে সবাই ছাদে ঘুমাতে যান, আর নিচতলায় ঘুমিয়ে থাকা পীতমকে গলায় চেপে হত্যা করেন বিজয়। মরদেহ পাশের ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়।

পরদিন সোনিয়া নিখোঁজ ডায়েরি করেন এবং তার মোবাইল ফোনটি প্রেমিক রোহিতকে দিয়ে বলেন সেটি ধ্বংস করতে। কিন্তু রোহিত ফোনটি ব্যবহার করতে থাকেন, যা শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে পুলিশের নজরে।

মোবাইল ফোনেই ধরা পড়ে যায় খুনের রহস্য

পুলিশ পীতমের ফোন ট্র্যাক করে জানতে পারে সেটি সোনিপাত এলাকায় ব্যবহার হচ্ছে। সন্দেহ বাড়লে রোহিতকে নজরদারিতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে ফোন কেনা বলে দাবি করলেও পরে স্বীকার করেন পুরো ঘটনা। পুলিশ পরে সোনিয়াকেও গ্রেপ্তার করে, যিনি স্বীকার করেন সব পরিকল্পনার মূল হোতা ছিলেন তিনি নিজেই।

অতিরিক্ত মোড় ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ জানায়, হত্যার পর বিজয় মরদেহের ছবি সোনিয়াকে পাঠান এবং তার কাছ থেকে টাকা নেন।  মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে সেটি পীতমেরই ছিল। বর্তমানে সোনিয়া ও রোহিত পুলিশ হেফাজতে। বিজয় আগেই এক চুরির মামলায় কারাগারে।

এই ঘটনায় নতুন চমক হলো—প্রীতমকে হত্যার সময় প্রেমিকা সোনিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে থাকলেও, রোহিত চলতি বছরের এপ্রিলেই বিয়ে করেছেন আরেকজনকে।

সূত্র: এনডিটিভি

মতামত দিন