আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ চীন সাগরে বিশাল সামরিক ঘাঁটি গড়ছে চীন, পারমাণবিক যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রায় ৩,২০০ হেক্টরজুড়ে একটি কৃত্রিম দ্বীপে আধুনিক সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে চীন, যার মাধ্যমে অঞ্চলটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে বেইজিং।

সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা এশিয়া মেরিটাইম ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ (এএমটিআই)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত মিসচিফ রিফে নির্মিত এই ঘাঁটিতে পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েনের মতো সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, পুরো দ্বীপটি যেন একটি সুবিন্যস্ত সামরিক নগরীতে রূপ নিয়েছে—যেখানে বিস্তৃত রানওয়ে, রাডার সিস্টেম, ক্ষেপণাস্ত্র রাখার সুরক্ষিত স্থান, এবং শতাধিক যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার রয়েছে। এএমটিআই পরিচালক গ্রেগরি পোলিং এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই ঘাঁটিগুলো শুধু প্রতিরক্ষার জন্য নয়, দক্ষিণ চীন সাগরে আগ্রাসী সামরিক উপস্থিতির অংশ হিসেবেই গড়ে তোলা হয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জে চীনের সর্বশেষ সামরিক অবস্থানগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। এএমটিআইর তথ্য অনুযায়ী, চীন ইতোমধ্যে স্প্রাটলি অঞ্চলে সাতটি কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করেছে, যার মধ্যে অন্তত চারটি  পুরোপুরি বিমান ও নৌ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া, পার্শ্ববর্তী প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জে চীনের ২০টির বেশি সামরিক অবস্থান রয়েছে। আর স্কারবোরো শোয়াল এলাকায় চীনা কোস্টগার্ড নিয়মিত টহল দিলেও এখনো স্থায়ী কাঠামো গড়া হয়নি।

এই সামরিকীকরণের পেছনে চীনের দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও বেইজিং দাবি করে, অঞ্চলটি তাদের ঐতিহাসিক অধিকারভুক্ত এবং কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য এসব ঘাঁটি নির্মাণ প্রয়োজন।

মতামত দিন