শর্তসাপেক্ষে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পথে কানাডা, বিরোধিতা ইসরায়েলের।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে শর্তসাপেক্ষে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কানাডা।দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যদি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনসহ একটি গণতান্ত্রিক রোডম্যাপে অগ্রসর হয়, তাহলেই কানাডা স্বীকৃতি বিবেচনা করবে।
বুধবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেন, “শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে যে ফিলিস্তিনিরা এগোতে চায়, যারা সন্ত্রাস নয়, শান্তি বেছে নিচ্ছে—তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি বলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ।
তবে কার্নির এই অবস্থানকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, কানাডার এই প্রস্তাব হামাসকে ‘পুরস্কৃত’ করার সামিল। তাদের মতে, এটি গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও জিম্মি মুক্তির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির বিষয়টি বিবেচনা করছে। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, যদি ইসরায়েল গাজায় মানবিক সংকট নিরসনে বাস্তবসম্মত ও মানবিক পদক্ষেপ না নেয় এবং শান্তি আলোচনায় আন্তরিক না হয়, তাহলে আগামী সেপ্টেম্বরেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনকে ইতোমধ্যে ১৪০টির বেশি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর বড় অংশ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। কানাডা ও যুক্তরাজ্যের এমন সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মতামত দিন