ইরান-রাশিয়ার জ্বালানি নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ নিষেধাজ্ঞা।
ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে গোপন অর্থনৈতিক তৎপরতায় জড়িত একটি বিস্তৃত তেল পরিবহন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বলছে, বুধবার ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞা ২০১৮ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় পরিসরে নেওয়া পদক্ষেপ।
ওয়াশিংটনের মতে, এই চক্রের মাধ্যমে ইরান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানি করে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে ‘অস্থিতিশীল কার্যক্রমে’ অর্থায়ন করছে, যার কিছু অংশ রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হয়েছে ১৫টি তেল পরিবহন কোম্পানি, ৫২টি জাহাজ, ১২ জন ব্যক্তি এবং ৫৩টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান ১৭টি দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানায় ট্রেজারি বিভাগ।
বিশেষভাবে নজরে এসেছেন মোহাম্মদ হোসেইন শামখানি—ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী শামখানির পুত্র। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছদ্মনামে পরিচালিত একটি চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইরানি তেল পরিবহন ও বিক্রির ব্যবস্থা করতেন, যা ইরানের বৈদেশিক কার্যক্রমে অর্থ জোগানে ব্যবহৃত হতো।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ নীতির পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। এর মাধ্যমে আমরা ইরানি শাসকদের অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চাই, যাতে তারা বৈশ্বিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান-রাশিয়া জোটকে কোণঠাসা করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
মতামত দিন