ইউরোপজুড়ে দাবানলের তাণ্ডব: আতঙ্কে হাজারো মানুষ।
দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক ও গ্রিসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত জনজীবন।
আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দাবানলের ভয়াবহতা আরও বেড়েছে। দাবানলের কারণ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন অব্যাহত তাপপ্রবাহ ও মানবসৃষ্ট অগ্নিসংযোগকে দায়ী করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া ও ইতালি থেকে বিশেষ বিমান ও সহায়ক ইউনিট পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, বুলগেরিয়ায় ২৩০টিরও বেশি পৃথক দাবানল সক্রিয় রয়েছে। তুরস্ক সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। আগুনে বসতভিটা, খামার এবং বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দেশটির ১১টি অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঠানো হেলিকপ্টার ও বিমানের সহায়তায় কাজ করছে স্থানীয় বাহিনী।
তুরস্কেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। বুরসা শহরের উপকণ্ঠে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইজমির ও বিলিসিক প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
গ্রিসের পিলোপনেস, এভিয়া, কিথিরা ও ক্রিট অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে দাউদাউ আগুন। রাজধানী এথেন্সের উত্তরের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। শতাধিক দমকল কর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের বিমান ও হেলিকপ্টার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় প্রতি বছর দাবানলের মাত্রা বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। অপ্রতিরোধ্য তাপপ্রবাহ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুতগতিতে, যার প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্য ও জননিরাপত্তার ওপর।

মতামত দিন