ইরান-ইসরায়েল ফের মুখোমুখি: যুদ্ধবিরতির পর নতুন সংঘর্ষের ইঙ্গিত।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে শেষ হওয়া ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক। দুই পক্ষই নিজেদের বিজয় দাবি করলেও যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার বদলে আরও বিস্ফোরণমুখী হয়ে উঠছে।
জানুয়ারির প্রথম দিকে ইসরায়েল হঠাৎ করে ইরানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান নজিরবিহীনভাবে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দেয় তেল আবিবের দিকে। ইসরায়েল যখন চাপে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করে, তখন মার্কিন বাহিনী তেহরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে ইরান কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে। এরপরই আসে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব।
টানা ১২ দিনের এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রাণহানি ও বিপুল সামরিক ক্ষয়ক্ষতির খবর আসে। যুদ্ধ থেমে গেলেও থামেনি বাকযুদ্ধ। তেল আবিব যুদ্ধকে “কৌশলগত জয়” হিসেবে তুলে ধরছে। ইসরায়েলি নেতারা বলছেন, ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার পাশাপাশি তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় রাজি করানো ছিল ‘অর্জন’।
অন্যদিকে, তেহরানও নিজেদের জয়ের দাবিতে পিছিয়ে নেই। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ইসরায়েল যদি আবার হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ভূখণ্ডের গভীরে ঢুকে জবাব দেবে ইরান।
এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ‘গ্যাসের প্যাডেল থেকে পা তুলছেন না।’ অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখছে এবং সম্ভবত ফের হামলার পরিকল্পনা করছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসরায়েল এখন এমন সুযোগ খুঁজছে, যার মাধ্যমে ইরানকে আরও দুর্বল করা যায়—বা অন্তত ক্ষমতাসীন সরকারকে বিপদে ফেলা যায়। তবে নতুন অভিযানে যেতে হলে তেল আবিবকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান।
ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক ত্রিতা পারসির মতে, নেতানিয়াহুর উদ্দেশ্য স্পষ্ট—ইরানকে সিরিয়া কিংবা লেবাননের মতো একটি অবস্থা পর্যন্ত নামিয়ে আনা, যেখানে ইসরায়েল নিয়মিত আঘাত হানলেও কেউ রুখে দাঁড়াতে পারবে না।
সবমিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই ফের উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। এবার পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে গড়ায়, তা নির্ভর করছে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

মতামত দিন