সীমান্তে থাই-কম্বোডিয়া সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান হামলা থাইল্যান্ডের।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশের সেনাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
থাই সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ছয়টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়, যার মধ্যে একটি কম্বোডিয়ার অভ্যন্তরে ঢুকে গুলিবর্ষণ করে এবং কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে। থাই সেনাবাহিনীর দাবি, ‘স্পেশাল মিলিটারি রিজিয়ন কমান্ডস ৮ ও ৯’-এর দুটি ঘাঁটি এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, থাই বাহিনীর উপ-মুখপাত্র রিচা সুকসুয়ানন বলেন, এই হামলা ছিল ‘নির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত’। আরেক কর্মকর্তা সুরাসান কংসিরি জানান, অন্তত ছয়টি সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং বোমা ও গুলির আঘাতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, থাইল্যান্ড সীমান্তে ভারী অস্ত্র ও বিমান হামলার মাধ্যমে কম্বোডীয় ভূখণ্ড দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক শান্তির পরিপন্থী।
কম্বোডিয়ার মুখপাত্র মালি সওচেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের ভূখণ্ড রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত। থাইল্যান্ডের এই বেআইনি পদক্ষেপ শুধু শান্তি নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।”
এই পরিস্থিতিতে থাই কর্তৃপক্ষ সীমান্ত দিয়ে চলাচল সীমিত করেছে এবং বেশ কয়েকটি প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই দেশ পরস্পরকে হামলার জন্য দায়ী করলেও এখনো কোনো পক্ষ আলোচনায় বসার ঘোষণা দেয়নি।

মতামত দিন