বিদায় নিচ্ছে ভারতীয় আকাশের ‘ট্র্যাজিক হিরো’ মিগ-২১।
ভারতের সামরিক উড়োজাহাজ ইতিহাসের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টানতে চলেছে মিগ-২১। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে আকাশ রক্ষায় থাকা এই যুদ্ধবিমানটি চূড়ান্ত অবসরের পথে।
প্রথম সুপারসনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে ১৯৬৩ সালে ভারতীয় বহরে যুক্ত হয়েছিল সোভিয়েত নির্মিত মিগ-২১। এটি দিয়েই গঠিত হয়েছিল ভারতের প্রথম সুপারসনিক স্কোয়াড্রন। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠা এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছে একাধিক বড় যুদ্ধে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার গভর্নর হাউসে বিমান হামলার ঘটনাটি সামরিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এমনকি ১৯৬৫ ও ১৯৯৯ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষেও মিগ-২১’র উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।
তবে গৌরবের পাশাপাশি মিগ-২১ ছিল দুঃসংবাদের উৎসও। বছরের পর বছর ধরে চলা একের পর এক দুর্ঘটনায় পড়ে বিমানটি হয়ে ওঠে বিতর্কিত। ভারতীয় মিডিয়া জানিয়েছে, এর ইতিহাসে অন্তত ৫০০টির বেশি দুর্ঘটনার তথ্য রয়েছে, যাতে মৃত্যু হয়েছে ২০০ জনেরও বেশি পাইলট ও সামরিক সদস্যের। গত ১৫ বছরে কমপক্ষে ২০টি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।
২০২৩ সালে রাজস্থানে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে মিগ-২১ ফ্লিটের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এবার সেই স্থগিত অবস্থারই স্থায়ী রূপ পেতে যাচ্ছে। বর্তমানে ব্যবহৃত ৩৬টি মিগ-২১ আগামী সেপ্টেম্বরের পর আর আকাশে দেখা যাবে না।
মিগ-২১’র স্থানে আসবে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস এমকে-১ যুদ্ধবিমান। হালকা, দ্রুতগামী এবং আধুনিক প্রযুক্তির এই ফাইটার জেট চতুর্থ প্রজন্মের কাছাকাছি সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত হয়েছে নতুন যুগে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিতে।
মতামত দিন