দামেস্কে সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা, সিরিয়ায় উত্তেজনার নতুন শিখর।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই হামলা সুইদা অঞ্চলে সিরীয় বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ‘প্রত্যুত্তর’ হিসেবেই এসেছে। তিনি দাবি করেন, দ্রুজ জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ রাখতে ইসরায়েল বাধ্য হয়ে এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
সুইদা শহরে কয়েক সপ্তাহ ধরে সিরীয় সরকারি বাহিনী ও স্থানীয় দ্রুজ যোদ্ধাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। মঙ্গলবার ঘোষিত স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে যায়। এরপরই দামেস্কে শুরু হয় ড্রোন হানার এই অভিযান।
চোখের সামনে হামলার বিবরণ
আল জাজিরার দামেস্ক প্রতিনিধি ওসামা বিন জাভেদ বলেন, “আমি নিজ চোখে দুটি পৃথক বিস্ফোরণ দেখেছি—একটি সামনের দিকে, আরেকটি ভবনের পেছনে। এখনও শহরের আকাশে ড্রোনের শব্দ ভেসে আসছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট থেকে গুলি ছোঁড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এই হামলা দামেস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংঘাত এখন সরাসরি রাজধানীর কেন্দ্রে চলে এসেছে।”
সীমিত না বিস্তৃত—নতুন উদ্বেগ
লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রব গেইস্ট পিনফোল্ড মনে করেন, ইসরায়েল এখন পর্যন্ত প্রতীকী মাত্রায় হামলা চালালেও ভবিষ্যতে এটি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, “সুইদায়ও এমনই সীমিত আকারে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। পরে তা রূপ নেয় একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে।”
সঙ্কটের উৎস ও বিস্তার
সুইদার সংঘাত শুরু হয়েছিল স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে অপহরণ-পাল্টা অপহরণ এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের মাধ্যমে। একাধিক সূত্র জানায়, ওই সংঘর্ষে ইতোমধ্যেই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
এই অবস্থার মধ্যেই ইসরায়েলি হামলা সিরিয়াজুড়ে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরানপন্থী মিলিশিয়া ও রুশ ঘনিষ্ঠ সরকারি বাহিনীর অবস্থানের ওপর দৃষ্টি রেখে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন।
উপসংহার
বিশ্লেষকরা বলছেন, দামেস্কে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন উত্তেজনার সূচনা হতে পারে। পরিস্থিতি এমন এক মোড়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য উসকানিই হয়তো বড় ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হতে পারে।
এই মুহূর্তে সিরিয়ায় সংঘাত সীমান্ত ছাড়িয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে গড়ানোর আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
মতামত দিন