আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ ভয়াবহ হুমকির দ্বারপ্রান্তে, সতর্ক করলেন মাখোঁ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংস সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউরোপ আবারও এক গভীর নিরাপত্তা সংকটে পড়ছে—এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

সোমবার (১৪ জুলাই) ফরাসি সেনাবাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ এত বড় হুমকির মুখে আর পড়েনি।

তার ভাষায়, “আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছি, যেখানে স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে হলে শক্তির প্রদর্শন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।”

‘আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদ’ ও ইউক্রেন যুদ্ধ
রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে মাখোঁ বলেন, ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক অভিযান শুধু একটি দেশের আভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং সমগ্র ইউরোপের স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি রাশিয়ার পদক্ষেপকে ‘সাম্রাজ্যবাদী’ বলেও অভিহিত করেন।

ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বড়সড় বৃদ্ধি
এই হুমকির জবাবে ফ্রান্স সামরিক খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাখোঁ জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা বাজেটে ৩.৫ বিলিয়ন ইউরো যুক্ত করা হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে আরও ৩ বিলিয়ন ইউরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

২০১৭ সালে ফ্রান্সের বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয় যেখানে ছিল ৩২ বিলিয়ন ইউরো, তা বাড়িয়ে ৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্যারিস। তবে এই বাজেট বৃদ্ধির বিষয়টি এখনো ফরাসি পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট আরও উদ্বেগজনক
ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তে ফের উত্তেজনা, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ১২ দিনের যুদ্ধ, এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি—এই তিনটি বড় সংঘর্ষের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে নতুন এক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ন্যাটোও নিচ্ছে প্রতিরক্ষা জোরদারের পদক্ষেপ
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনেও নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেখানে সদস্য দেশগুলো সিদ্ধান্ত নেয়, তারা প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি করে জিডিপির ২ শতাংশের জায়গায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যাবে।

বিশ্ব আবারো পারমাণবিক উত্তেজনার পথে?
বাস্তিল দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া এ ভাষণে মাখোঁ আরও বলেন, “বিশ্ব আবার সেই পুরনো ভয়াল পথেই হাঁটছে—পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা, মহাসংঘাত এবং ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের দিকে।”

মতামত দিন