যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পাশেই রুশ মিসাইলের আঘাত।
রয়টার্স ও স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে কিয়েভ। অনেক জায়গায় আগুন ধরে যায়, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় আবাসিক ভবন। মার্কিন দূতাবাস থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরের শেভচেনকিভস্কি জেলার একটি বহুতল ভবনে হামলার পর হতাহতের ঘটনাও ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মেট্রো স্টেশন এবং বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের প্রবেশপথ।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ এখনো চলছে। স্থানীয়দের মতে, বিস্ফোরণের ভয়াবহতায় রাতের আকাশ আলোয় ছেয়ে যায়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যালেরি মানকুতা বলেন, ‘‘বিস্ফোরণের পর নিজের জীবন বাঁচাতে জানালা দিয়ে লাফ দেই। মুখে বালু, শরীরে ইট পড়ে। মনে হচ্ছিল, যেন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।’’
ইউক্রেনের জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, কেবল কিয়েভ শহরেই চার শিশুসহ অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন। এ হামলায় বেসামরিক স্থাপনাই মূল লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেছে ইউক্রেন সরকার।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা চারটি ভিন্ন অঞ্চলে হামলা প্রতিহত করেছে। রাশিয়ার নিক্ষিপ্ত ৩৫২টি ড্রোনের মধ্যে ৩৩৯টি এবং ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৫টি তারা ভূপাতিত করেছে।
এই হামলা এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটোর বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে এই হামলা রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
তবে হামলার পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
মতামত দিন