ইরানে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা,নিহত ৩।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাটি ঘটেছে ইরানের নাজাফাবাদ শহরে। স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় শহরের মোন্তাজেরি হাসপাতালের নিকটবর্তী শরীয়তি স্ট্রিটে এ হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে থাকা নাজাফাবাদের গভর্নর মিদরেজা মোহাম্মদী ফেশারাকি জানান, ড্রোন থেকে ছোড়া অস্ত্রে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সটি আঘাত পায়।
হামলার সময় অ্যাম্বুলেন্সটিতে একজন রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। বিস্ফোরণে চালক, রোগী এবং তার সঙ্গী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয় অ্যাম্বুলেন্সটি। বিস্ফোরণের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি পাশের আরেকটি চলন্ত গাড়িতে ধাক্কা দেয়।
এই ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুদ্ধনীতির সম্পূর্ণ বহির্ভূত পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।
প্রসঙ্গত, চলমান ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের সূচনা ঘটে ১৩ জুন, যখন ইসরায়েল একযোগে ইরানের পারমাণবিক, সামরিক ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হন বলে দাবি করে তেহরান। নিহতদের মধ্যে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীও ছিলেন।
এর জবাবে ইরান শুরু করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস III’ নামক পাল্টা অভিযান, যার আওতায় ২২ জুন পর্যন্ত ইসরায়েলে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি এখন আর সীমিত প্রতিক্রিয়ার মধ্যে নেই— এটি ক্রমেই একটি পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিচ্ছে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে।

মতামত দিন