ইসরায়েলে ইরানের বহুমাথার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
আইআরজিসি জানিয়েছে, রোববারের হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে খাইবারশেকান নামের বহুমাথার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যেটি তাদের নিজস্ব অ্যারোস্পেস ইউনিটের উন্নত তৃতীয় প্রজন্মের মিসাইল। এই ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রিত ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং আঘাত হানার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে।
হামলায় মোট ৪০টি সলিড ও লিকুইড ফুয়েল চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, একটি জৈব গবেষণা কেন্দ্র এবং একটি কৌশলগত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটি।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অত্যাধুনিক ও চমকপ্রদ কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা অনেক বেড়েছে এবং ধ্বংসের মাত্রাও ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে। মিসাইল হামলার ঠিক পরপরই ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে, যা দেশটির সামরিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করে বলে দাবি করেছে তেহরান।
এছাড়া, আইআরজিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরানের সামরিক শক্তির মূল অংশ এখনো ব্যবহৃত হয়নি। প্রয়োজন হলে তারা আরও বিস্তৃত প্রতিক্রিয়ায় যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি।
উল্লেখ্য, চলমান সংঘাতের সূচনা ১৩ জুন, যখন ইসরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে আছেন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু কর্মী।
ইরান তার প্রতিক্রিয়ায় মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে ২০ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তেহরান বারবার বলে আসছে, তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মতামত দিন