আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

সৌদির আকাশে ৭ হামলা প্রতিহত, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন ধ্বংসের দাবি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশসীমায় একাধিক হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জোটের দাবি, দেশটির দুটি অঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করে। পরে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। একইভাবে দক্ষিণাঞ্চল অভিমুখী চারটি ড্রোনও প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

হামলার আশঙ্কায় পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে আগাম বার্তা দিয়েছিল সৌদি সিভিল ডিফেন্স। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর সংস্থাটি জানায়, ওই দুই এলাকায় আর তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই।

সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের বিরোধের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল। গত মাসে উপকূলের কয়েকটি কৌশলগত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হয় হুতি বাহিনী। এর জেরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

আফ্রিকা ও আরব উপদ্বীপের মধ্যবর্তী এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের জন্যও নৌপথটি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এলাকাটিতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিদের মধ্যে লড়াই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

ইরানের সমর্থন পাওয়া হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে আসছে।

সূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন