ডিআর কঙ্গোর হ্রদে নৌকাডুবি, প্রাণ গেল ৪১ জনের।
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) টাঙ্গানিকা হ্রদে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনার পরও চলছে নিখোঁজদের সন্ধান। বৃহস্পতিবার মাপেরা গ্রামের কাছে দুর্ঘটনার শিকার নৌকাটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ও পণ্য ছিল বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোয়ি বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নৌযানটি তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ডিআর কঙ্গোর কালেমি শহরের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রাপথে মাপেরা গ্রামের কাছাকাছি এসে এটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে যাওয়া যাত্রী অ্যানি মোয়োনি। জাতিসংঘ-সমর্থিত কঙ্গোলিজ সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপিকে তিনি বলেন, রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ যাত্রীদের ঘুম থেকে জাগিয়ে দেওয়া হয়। তখন তারা বুঝতে পারেন, নৌযানটি একদিকে কাত হয়ে পড়ছে।
টাঙ্গানিকা হ্রদের এই দুর্ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগেও একই নৌপথে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল। গত ২৮ আগস্ট কিগোমা বন্দরে জ্বালানি নেওয়ার সময় কঙ্গোর নৌযান ‘এমভি প্যাসিফিক’-এ আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে। রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, এতে ছয়জন ক্রু নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ‘এমভি প্যাসিফিক’ কিগোমা ও কালেমির মধ্যে চলাচল করত এবং জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।
ডিআর কঙ্গোতে নৌপথ বহু মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমগুলোর একটি। সড়কসহ অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামো প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত হওয়ায় নৌযানই অনেকের কাছে তুলনামূলক সস্তা ও সহজ যোগাযোগের পথ। তবে এপি জানিয়েছে, দেশটির অনেক নৌযানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া হয় এবং পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটও থাকে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের নৌদুর্ঘটনায় দেশটিতে শত শত মানুষের প্রাণ গেছে।
টাঙ্গানিকা প্রদেশের এবারের দুর্ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য থেকে জানা গেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

মতামত দিন