জ্বালানি সংকটে ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, খুলনায় বাড়ছে লোডশেডিং।
খুলনা অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬টিই বন্ধ থাকায় এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে।
গ্রীষ্ম মৌসুমে খুলনা অঞ্চলের দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো।
বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মোট ছয়টি ইউনিট। এসব কেন্দ্র সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি না থাকায় উৎপাদনে যেতে পারছে না।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী জানান, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না থাকায় কেন্দ্রটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টার থেকে চাহিদা থাকলেও জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
তবে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলেও পুরো অঞ্চলের চাহিদা পূরণে তা যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে বিতরণ কোম্পানিগুলো বাধ্য হয়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে।
ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সীমিত সরবরাহের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই লোডশেডিং করতেই হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার সঙ্গেও যুক্ত। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার কারণে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে।
পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের এক আলোচনায় বলা হয়, দেশের বড় অংশের এলএনজি ও অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই রুটে সমস্যা দেখা দিলে বিদ্যুৎ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না, যার ফলে শিল্প উৎপাদনেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া জরুরি। সৌরবিদ্যুতে খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি ভবিষ্যতের টেকসই বিকল্প হতে পারে।
তাদের মতে, সৌর প্যানেলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ভর্তুকি সম্প্রসারণ এবং নীতিগত সংস্কার ছাড়া এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হওয়া সম্ভব নয়।
মতামত দিন