সবজির আগুনে পুড়ছে বাজার, সাধারণ মানুষের হাঁসফাঁস।
গরু-খাসির মাংস তো আগেই নাগালের বাইরে চলে গেছে, এবার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে সবজিও। কয়েকদিন আগেও দাম কিছুটা সহনীয় ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের উর্ধ্বগতিতে বাজারে পা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর শ্যামবাজার, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ধূপখোলাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে—আলু ছাড়া আর কোনো সবজির দাম ১০০ টাকার নিচে নেই। বাধ্য হয়ে ক্রেতারা অল্প করে কিনছেন। আলুর দামই কেবল তুলনামূলক কম—২৫ টাকা কেজি।
একজন ভোক্তা মাহবুব শান্ত বললেন, “আমার মতো মানুষদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একসময় আধা কেজি বা এক কেজি সবজি কিনতাম, এখন ২৫০ গ্রামে নামিয়ে আনতে হচ্ছে। মাসখানেক আগেও সহনীয় ছিল, এখন টানাটানি ছাড়া উপায় নেই।”
অন্য ক্রেতা রিফাত খানের আক্ষেপ, “কয়েকদিন আগে ৫০-৬০ টাকায় সবজি পেতাম। এখন ১০০ টাকার নিচে কিছু নেই। বাধ্য হয়ে অল্প করলা আর দুই কেজি আলু নিয়ে ফিরছি। মাছের দামও বেশি, কিনতে পারছি না।”
বিক্রেতারা বলছেন, মূল দোষ আড়তদারদের সিন্ডিকেট। টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহও কমেছে, তাই তাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
সূত্রাপুরের মাছ বিক্রেতা সজল মিয়ার মতে, মৌসুমি কারণে এই সময়ে সবজির উৎপাদন কম থাকে, ফলে দামের চাপ বেড়েছে।
সবজির চড়া দামে বাজার অগ্নিময়
ঢ্যাঁড়শ-পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। বরবটি, বেগুন, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা—সবই ১০০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। কাঁচামরিচের কেজি ৩২০ টাকা ছুঁয়েছে, যেখানে এক মাস আগেও ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। একটি চালকুমড়া ৭০-১০০, আর লাউ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।
ডিমের বাজারেও আগুন
ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী—প্রতি ডজন ১৫০-১৫৫ টাকা, মহল্লার দোকানে আরও ৫-১০ টাকা বেশি। অথচ এক মাস আগেও ১২০-১২৫ টাকায় মিলত। গেন্ডারিয়ার বিক্রেতা মাসুদের ব্যাখ্যা, “সবজির দাম বাড়লে মানুষ ডিমের দিকে ঝোঁকে, তখনই দাম বেড়ে যায়।”
মাছ-মাংসের দামে নতুন চাপ
বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৭০-১৮৫ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকায়। গরুর মাংস স্থির থেকেও চড়া—৭৫০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা। ইলিশের কেজি ১ হাজার ৬০০ থেকে শুরু করে ২ হাজার ৬০০ পর্যন্ত।
চাষের রুই ৩৮০-৪৫০, কাতলা ৪৫০-৫০০, কৈ ২০০-২২০, তেলাপিয়া ২০০-২৪০, পাঙাশ ১৮০-২৩০, শিং ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক কথায়, বাজার এখন এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে—যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের নিত্যপণ্য কিনতে গেলেই হাঁসফাঁস করছে।
মতামত দিন