ডিমের বাজার লাগামছাড়া: ডজনপ্রতি দাম বেড়ে ৩০ টাকা।
গত এক মাসে ডিমের বাজার ফের লাগামহীন হয়ে উঠেছে। ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ২৫-৩০ টাকা, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ অতিরিক্ত ব্যয় বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক ৪.৫ থেকে ৫ কোটি পিস ডিম উৎপাদিত হয়। সরবরাহ ও চাহিদার সামঞ্জস্য না থাকলে দাম দ্রুত ওঠানামা করে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমদানির মাধ্যমে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল, এবং খুচরায় নির্ধারিত দাম কার্যকর করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের মে মাসের পর আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে ডজনপ্রতি লাল ডিম ১৪৫-১৫০ টাকা, সাদা ডিম ১৩৫-১৪০ টাকা এবং হাসের ডিম ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ দিন আগে লাল ও সাদা ডিমের দাম ছিল যথাক্রমে ১২০ ও ১১০ টাকা। বাজারে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে সরবরাহ অপর্যাপ্ত হওয়ায় দাম বেড়ে গেছে।
বিপিএ সভাপতি সুমন হাওলাদার জানান, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং কিছু খামারের বন্ধ হওয়া বাজারের দাম বাড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, করপোরেট কোম্পানি ও প্রভাবশালী ডিম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গঠন করে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত, এবং সাধারণ ভোক্তা অতিরিক্ত খরচে পড়ছেন।
তিনি বলেন, সরকারের আমদানির সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে দাম কমাতে পারে, কিন্তু দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। বরং স্থানীয় উৎপাদন রক্ষা ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারকে বাজারে সরাসরি নজরদারি ও নীতি গ্রহণ করতে হবে।
ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইনও বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে দাম অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করছে। ছোট খামার বন্ধ হলে বাজার ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে যাবে। সরকারের উচিত বাজারে খরচ যাচাই করে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।
মতামত দিন