গাইবান্ধায় হ্যাকার চক্রের হোতাকে শিশু দেখিয়ে জামিন: আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা।
পাবলিক প্রসিকিউটর আবু বকর সিদ্দিক ছানা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে ওই জামিন বাতিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ১২ আগস্ট দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী সরওয়ার হোসেন বাবুল জানান, ৪ আগস্ট ইস্যুকৃত জন্মনিবন্ধনে পলাশ রানার জন্মতারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০০৮ দেখানো হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্মতারিখ ১ জুন ২০০০, অর্থাৎ বয়স ২৫ বছর ২ মাস।
গত ৩ আগস্ট শিশু আদালতে পলাশকে ১৭ বছর ৭ মাস বয়সী দেখিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে জামিন নেওয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
মামলাটির সূত্রপাত ঘটে ২৭ জুলাই, যখন দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন মিস কেস করেন। এর আগে, ২০ জুলাই আমলী আদালতে জামিন ব্যর্থ হয়।
গত ১৫ জুলাই ভোরে সেনা-পুলিশ যৌথ অভিযানে গোবিন্দগঞ্জের তালুককানুপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে হ্যাকার চক্রের হোতা পলাশ রানা ও সহযোগী সুমন মিয়া, সাইদুল ইসলাম ও আবু সাইদ লিটনকে আটক করা হয়। এ সময় বিপুল সিম, মোবাইল ও প্রযুক্তি ডিভাইস উদ্ধার হয়। সরকারি ভাতা হ্যাক করে লাখো টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলা শিশু আদালতের বিচারক আদালতের পেশকারকে নির্দেশ দেন, অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে।
পেশকার সালাহউদ্দিন আদালতের নির্দেশে বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সদর থানার ওসি শাহীনুল ইসলাম তালুকদার জানান, লিখিত এজাহার হাতে পাওয়া গেছে, তবে কিছু সংশোধন ও বিয়োজনের পরই মামলা রুজু করা হবে।
অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলা হলে সেটি আদালতে মোকাবিলা করা হবে।

মতামত দিন