অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

টনসিল অপারেশনের পর শিশুর মৃত্যু; দুই চিকিৎসক পুলিশের হেফাজতে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর লাইফ কেয়ার হাসপাতালে টনসিল অপারেশনের পর রাহা মনি (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হলে  তা নিয়ে ব্যাপক উৎকণ্ঠা ও অভিযোগ-প্রতিবাদ শুরু হয়। ঘটনার পর দুইজন চিকিৎসককে আটক করে পুলিশ নরসিংদী মডেল থানায় নিয়ে গেছে।

পরিবার ও হাসপাতালের বর্ণনা মিলছে না বলে পুলিশের কাছে  বিস্তারিত তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতের কোনো এক সময় পৌরশহরের হেমেন্দ্র সাহা মোড়ে অবস্থিত লাইফ কেয়ার হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটি রায়পুরা উপজেলার হাঁটুভাঙা এলাকার নিজামুল হক ও তানিয়া আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান। পরিবার জানায়, গত এক মাস ধরে  তার গলায় টনসিলের সমস্যা ছিল।

স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাক-কান-গলা চিকিৎসক ডা. তন্ময় কর চিকিৎসা ওষুধ দিয়ে যাচাই–পরামর্শ দিলেও সুস্থ হচ্ছিল না শিশুটি। পরিবার বলেছে, পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তন্ময় কর অপারেশনের পরামর্শ দেন এবং রাহা মনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী অপারেশনটি রাতের দিকে করা হয়; কিন্তু হাসপাতালের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবরণে অপারেশনের সময় ও ঘটনার ক্রম সম্পর্কে ভিন্ন টাইমলাইন পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের বক্তব্য — পরিচালক ফজলুল কাদের নিশ্চিত করেছেন, অপারেশন শেষে শিশুকে বেডে নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা পুনরায় জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ গ্রহণ করে তাকে ঢাকায় রেফার করার চেষ্টা করেন; এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই শিশুটি মারা যায়, জানিয়েছে হাসপাতাল পরিচালক।

অন্যদিকে অপারেশনে উপস্থিত অ্যানেস্থেসিয়িস্ট ডা. সুদীপ্ত সাহা বলেন, টনসিল অপারেশন প্রথমে সফলভাবে শেষ করা হয়েছিল এবং শিশুকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বেডে হস্তান্তর করা হয়। কিছুক্ষণ পর নার্স  তাদের জানায় শিশুটি শ্বাসকষ্ট করছে; সঙ্গে সঙ্গে তারা ফিরে এসে পুনরায় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ-চিকিৎসা চালান। তিনি বলেন, ডাক্তার হিসেবে পুরো রুটিন মেনে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং অপারেশন বা অ্যানেস্থেসিয়ায় ত্রুটি ছিল না বলে তাদের দাবি।

পরিবারের অভিযোগ একেবারেই ভিন্ন। নিহত শিশুটির বাবা নিজামুল হক দাবি করেছেন, অপারেশনের  পরে তাদের বলা হয় ১৫ মিনিটের মধ্যে রাহার জ্ঞান ফিরবে; কিন্তু অনেকক্ষণ পরও কোনো সাড়া না পেয়ে যখন তিনি জোর করে ওটিতে ঢোকেন, তখন তাঁর মেয়ের পা ঠান্ডা এবং সে মৃত অবস্থায় ছিল। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর খাদ্যচালিতভাবে মুমূর্ষু রোগী ঢাকায় নেওয়ার নামে ছলচাতুরি করা হয়েছে এবং তাঁর মেয়েকে ভুল চিকিৎসায় হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালের বাইরে জড়ো হয়ে দুই চিকিৎসককে ধাওয়া করে আটক করে রাখা ও মারধর করার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসেছে এবং রাত প্রায় ১১টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসককে হেফাজতে নিয়ে নরসিংদী মডেল থানায় নিয়েছেন। মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক বলেছেন, ঘটনাস্থল থেকে দুই চিকিৎসককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে।

ঘটনার পেছনে আসল কারণ নিরূপণ করতে পুলিশের তদবির ও চিকিৎসা রেকর্ড পরীক্ষা চলছে।

মতামত দিন