সন্দেহজনক লেনদেন বেড়ে ১৭ হাজার ছাড়াল, এক বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৩ শতাংশ।
ঢাকা,আজ মঙ্গলবার ২৭ মে ২০২৫:
২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে এমন লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৫টি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি।
মঙ্গলবার (২৭ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ ধরনের লেনদেন ছিল ১৪ হাজার ১০৬টি। তার আগের বছর,অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৫৭১টি।ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলা এ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহজনক লেনদেনের হার ২০২০-২১ সালে ছিল ৫ হাজার ২৮০টি এবং ২০১৯-২০ সালে ৩ হাজার ৬৭৫টি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫৭৩টি।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সচেতনতা বৃদ্ধি ও ইউনিটটির সক্রিয় তৎপরতার ফলে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা মনে করছে, মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নজরদারির সুফল হিসেবেই এই প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিএফআইইউ মোট ১১৪টি আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন (Financial Intelligence Report) বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থায় পাঠিয়েছে। এছাড়া দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১ হাজার ২২০টি তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩.৯১ শতাংশ বেশি।
বিএফআইইউ’র প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে সংস্থাটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “টাকা পাচারের পথ বন্ধ করতে এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিএফআইইউ তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা সহায়তায় আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।”
আর্থিক খাতে জবাবদিহি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিএফআইইউ-এর এ ধরনের বিশ্লেষণ ও তৎপরতা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
মতামত দিন