অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

তিতুমীর কলেজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা,আজ সোমবার ২৬ মে ২০২৫:
সরকারি তিতুমীর কলেজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ মে) সকালে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, যাদের সবাই সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সদস্য।

সবচেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ডেইলি ক্যাম্পাসের নিজস্ব প্রতিবেদক ও সাংবাদিক সমিতির দফতর  সম্পাদক আমান উল্লাহ আলভি। হামলার শিকার অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সারাবাংলা ডটনেটের আব্দুল্লাহ মজুমদার রাব্বি, ডেইলি ক্যাম্পাসের আল-আমিন মৃধা, এশিয়ান টিভির মাহমুদা আক্তার এবং রাইজিং বিডির উম্মে হাফসা।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, কলেজের হোস্টেলে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা চালালে সেটি ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়। এ সময় তাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করে দেওয়া হয়, নারী সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি “জিহ্বা ছিঁড়ে ফেলার” হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহত সাংবাদিক আমান উল্লাহ আলভি জানান, ছাত্রদলের একাংশ এক শিক্ষার্থীকে রিকশায় করে তুলে  নেওয়ার সময় তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তার সঙ্গে থাকা নারী সাংবাদিকদের ফোনও জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়।

হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের নাম প্রকাশ পেয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির নেতারা—আরিফ মোল্লা, রিমু, রাশেদুজ্জামান হৃদয়, খাজা মাইনুদ্দিন, হারুনর রশীদ, বাইজিদ হাসান সাকিব, ইমাম উদ্দিন, আল আমিন, নুর উদ্দিন জিসান, তোফায়েল আহমেদ, মেহেদী চৌধুরী, সোহাগ ও আঁখি হলের সভাপতি তোহা।

এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ড. ছদরউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাত্রদল শাখার আহ্বায়ক ইমাম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এটি দুঃখজনক ঘটনা, কেন্দ্রীয় কমিটিতে হামলাকারীদের নাম পাঠানো হয়েছে। তারা যাতে দলে না থাকতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

হামলার শিকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আলী আহমেদ অভিযোগ করেন, “অধ্যক্ষ আমাদের বিশৃঙ্খলাকারী  বলে ছাত্রদলের হাতে তুলে দিয়েছেন। আগে হল ছাত্রলীগের অধীনে ছিল, এখন ছাত্রদলের।”

সার্বিকভাবে তিতুমীর কলেজে চলমান হোস্টেল সংকট, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও ছাত্র রাজনীতির প্রভাব আজ সহিংস রূপ নিয়েছে, যার শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক উভয়েই।

মতামত দিন