অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর পর উদ্ধার মরিয়মের চিঠি, গাজী নজরুলকে ঘিরে নতুন আলোচনা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ দেওয়া একটি হাতে লেখা পাতাসহ বেশ কয়েকটি চিঠি উদ্ধার হয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে। লেখাগুলোতে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ঘিরে টানাপড়েনের পাশাপাশি ভালোবাসা, কষ্ট, অভিমান, প্রতারণার অনুভূতি এবং নিজের মর্যাদা ধরে রাখার প্রত্যয়ের কথা লিখেছেন বলে দেখা গেছে।

চিঠিগুলোর লেখক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের নাম। কোনোটি জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাডে, আবার কোনোটি সাধারণ সাদা কাগজে লেখা। কোথাও কালো, কোথাও লাল কালির ব্যবহার দেখা যায়। লেখাগুলোতে সম্পর্কের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ভিন্ন ভিন্নভাবে উঠে এসেছে।

একটি চিঠিতে নিজের বিশ্বাসের জায়গাটি তুলে ধরেছেন মরিয়ম। সেখানে তার বক্তব্যের ধরন এমন যে, তিনি যাকে নিজের পক্ষে থাকা একজন মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই বিপরীত অবস্থানে আবিষ্কার করার অনুভূতি তার মধ্যে তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে ‘তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি’ এবং ‘আমি হেরেছি—তুমি জিতেছো’—এ ধরনের কথা লিখেছেন তিনি।

অন্য একটি লেখায় সম্পর্কের অধিকার নিয়ে তার ভাবনার প্রকাশ রয়েছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, যাকে তিনি ভালোবেসেছিলেন তিনি আগে থেকেই অন্য এক নারীর স্বামী ছিলেন এবং আইনগতভাবে ওই নারীরই তার ওপর অধিকার ছিল। নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে দেখার পাশাপাশি অন্যের স্বামীকে ভালোবাসার মানুষ হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণে তৈরি হওয়া কষ্টের কথাও লিখেছেন। একই সঙ্গে ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়—এমন অনুভূতিও প্রকাশ পেয়েছে লেখাটিতে।

আরেকটি চিঠিতে বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ টেনে সম্পর্কের অভিজ্ঞতাকে একটি ‘গেমস’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন মরিয়ম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুত্বের প্রস্তাব গ্রহণ করে তিনি একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার মনে হয়েছে, সেই খেলায় নিজের অজান্তেই তিনি দাবার গুটির মতো ব্যবহৃত হয়েছেন।

বিশ্বাসভঙ্গের বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে এসেছে জাতীয় সংসদের প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি পাতায়। সেখানে বিশ্বাস করার সুযোগ নিয়েই তাকে ঠকানো হয়েছে—এমন অভিমানের কথা রয়েছে। একই লেখায় ভবিষ্যতে ওই ঘটনার পরিণতি নিয়ে সতর্কতামূলক বক্তব্যও পাওয়া যায়।

লাল কালিতে লেখা আরেকটি ছোট বার্তায় নিজের আত্মসম্মানের প্রসঙ্গ এনেছেন মরিয়ম। সেখানে মায়া বা আবেগের কারণে বারবার নত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তাকে যতটা সহজে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, বাস্তবে তিনি ততটা ‘সস্তা’ নন।

চিঠিগুলোর বাইরে পাওয়া তারিখযুক্ত পাতাটিতে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের লেখা। ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ দেওয়া ওই কাগজে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পড়ার জন্য কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা করা হয়েছে। এতে কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া ও আয়াতুল কুরসির পাশাপাশি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ ২১ বার, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ৩ বার পড়ার কথা লেখা রয়েছে।

এছাড়া ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া’ এবং দরুদ শরিফ ১১ বার পড়ার নির্দেশনাও রয়েছে। তালিকার শেষে ‘ইয়া আরহামার রাহিমিন’ ১১ বার পড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া পাতাগুলোতে কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ঘিরে লেখকের আবেগ, প্রত্যাশা, হতাশা এবং আত্মমর্যাদার অবস্থান সম্পর্কে নানা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে লেখা এসব নোট ও চিঠির বিষয়বস্তুতে তাই সম্পর্কের টানাপড়েনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুশীলনের কথাও পাশাপাশি উঠে এসেছে।

মতামত দিন